অভিষেক ঘোষ, মালবাজার: একদিকে পুরসভার আর্থিক অবস্থা দেউলিয়া, অন্যদিকে মাল পুরসভার (Mal Municipality) অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। বকেয়া মেটানোর দাবিতে মঙ্গলবার পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ির কাছে কর্মীরা স্মারকলিপি দেন। চলতি মাসের মধ্যেই সমস্যা মেটানো না হলে কর্মীদের একাংশ আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি বলেন, ‘আমি কর্মীদের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছি। শীঘ্রই সমাধানের পথ খোঁজা হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে মাল পুরসভার অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক প্রায় ১৭০ জন কর্মীর একটি বড় অংশ একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেয়। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা চার মাসের বেতন ওই কর্মীরা এখনও পাননি। পুরসভায় সর্বোচ্চ বেতন ১৪ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন বেতন ৬ হাজার টাকা বলে কর্মীরা জানান। এরিয়ার, গ্র্যাচুইটি ও ইনক্রিমেন্ট কোনওটিই নিয়ম মেনে কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৬১ লক্ষ টাকার প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসেবেও গরমিল রয়েছে বলে কর্মীরা দাবি করেন। ডেলিগেটেড কর্মীদের হাজিরাও নিয়মিত মেটানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে।
এত সমস্যার মধ্যেও বহু কর্মী দিনরাত পরিষেবা দিয়ে চলেছেন বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে কর্মীদের তালিকায় এমন নাম রয়েছে, যাঁদের কখনও পুরসভায় দেখা যায় না বলেও অভিযোগ ওঠে। প্রাক্তন চেয়ারম্যানের আমলে একাধিক অবৈধ নিয়োগ হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অনেক কর্মীর নিয়োগপত্র না থাকলেও মৌখিক নির্দেশে তাঁদের কাজে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। যাঁদের কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক নয়, তাঁদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার দাবিও তোলা হয়।
উৎপল চেয়ারম্যান হওয়ার পর একাধিক বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। অনেকেই বেতন বকেয়ার জন্য কর্মী আধিক্যকে দায়ী করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের পুরকর্মী মমতাজ আলি জানান, বেতন না পেয়েও তাঁরা কাজ করে চলেছেন, কিন্তু চেয়ারম্যান সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারছেন না। লিপি কুণ্ডু বললেন, ‘স্থায়ী কর্মীদেরও বিপুল বকেয়া রয়েছে এবং সরকারি নিয়ম মানা হচ্ছে না।’
বকেয়া বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগও কর্মীদের একাংশ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, পুরসভার বিভিন্ন পরিষেবা কর ও ভাড়া সঠিকভাবে আদায় হচ্ছে না। কর্মীদের বেতন দিতে প্রতি মাসে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হলেও পুরসভার নিজস্ব তহবিলের অবস্থা শোচনীয়। তহবিল বৃদ্ধিতে পুরসভা তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে। গত ১৫ বছরে সৌন্দর্যায়ন হলেও বড় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি বলে দাবি করা হয়।
সিপিএমের মাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজা দত্ত বলেন, ‘বকেয়া বেতন মাল পুরসভার পুরোনো সমস্যা এবং চেয়ারম্যানের উচিত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো।’ কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি নাসিম আহমেদ তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। আইনজীবী সুমন শিকদারের দাবি, পুরসভার এই অবস্থার জন্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররাই দায়ী। দ্রুত সমস্ত সমস্যা মেটানোর দাবি জোরালো হয়েছে।
