উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অসমের বিধানসভা নির্বাচনের বাদ্যি বাজার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। এবার কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের বিরুদ্ধে ওঠা তথাকথিত ‘পাকিস্তান-যোগ’ (Gaurav Gogoi Pakistan Hyperlink) -এর তদন্ত আর রাজ্যের হাতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিষয়টি ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র (Nationwide Safety) পক্ষে অত্যন্ত স্পর্শকাতর—এই যুক্তি দেখিয়ে গোটা মামলাটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল অসম মন্ত্রিসভা। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করে কার্যত কংগ্রেস শিবিরে বড়সড় ধাক্কা দিলেন।
রাজ্যের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এটি কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি একটি গভীর ‘ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্র’। হিমন্তের দাবি, গৌরব গগৈ, তাঁর ব্রিটিশ স্ত্রী এলিজাবেথ কোলবোর্ন এবং পাকিস্তানি নাগরিক আলি তৌকির শেখের মধ্যে একটি সন্দেহজনক সংযোগ রয়েছে। সিটের রিপোর্টে নাকি উঠে এসেছে, ২০১০-১২ সালে গৌরবের স্ত্রী পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরে উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আলির সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন। এমনকি, তাঁরা যৌথভাবে গবেষণাপত্রও লিখেছেন।
হিমন্তের অভিযোগের তির আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে গৌরব গগৈয়ের একটি পুরনো সফরের দিকে। তিনি দাবি করেন, বাবা (প্রয়াত তরুণ গগৈ) মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গৌরব পাকিস্তান হাই কমিশনের তৎকালীন প্রধান আব্দুল বাসিতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “একজন সাংসদ কেন গোপনে পাকিস্তান হাই কমিশনে প্রতিনিধিদল নিয়ে যাবেন? এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে হিমন্তের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সুচতুর। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য পুলিশ চাইলেই সাংসদকে গ্রেপ্তার করতে পারত, কিন্তু ভোটের আগে যাতে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র অভিযোগ না ওঠে, তাই বিষয়টি কেন্দ্রের হাতে ছাড়া হলো। অর্থাৎ, বল এখন অমিত শাহের মন্ত্রকের কোর্টে। রাজ্য পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, টেলিফোনিক রেকর্ড বা ক্লাসিফায়েড তথ্য খতিয়ে দেখার ক্ষমতা একমাত্র কেন্দ্রীয় এজেন্সিরই আছে।
যদিও গৌরব গগৈ আগেই এই সমস্ত অভিযোগকে “ভিত্তিহীন, পাগলামি এবং হাস্যকর” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী তথ্যের বদলে ‘আইটি সেল ট্রোল’-এর মতো আচরণ করছেন। তবে মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে যাওয়ার ফলে অসমের রাজনীতিতে যে নতুন করে ঝড় উঠতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
