বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ভোর পাঁচটা। পুব আকাশে তখনও সূর্য ওঠেনি। শহরবাসী প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছেন। আধো আলোয় স্টেশন বাজারে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিছুটা এগোতেই দোকানগুলি থেকে একটা ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে এল। সামনে গিয়ে দেখা গেল গরম চায়ের বদলে সেখানে মদ বিক্রি হচ্ছে। এটাই নিউ ময়নাগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন বাজারের প্রতিদিনের ছবি। ক্রেতারা ভোর পাঁচটায় বিক্রেতাদের মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আসেন। তারপর চায়ের আড়ালে মদ বিক্রি শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একসময় এই বাজার বেশ জমজমাট ছিল। বেআইনি মদ বিক্রি ও মদ্যপদের বেলেল্লাপনায় এখন তা জৌলুস হারিয়েছে। এলাকাবাসী সেজন্য এই বাজার এড়িয়ে চলেন। ময়নাগুড়ি আবগারি ওসি প্রবীর সান্যাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, ময়নাগুড়ি স্টেশন বাজারের (Mainaguri) ভোর পাঁচটা থেকে চায়ের দোকানে মদ বিক্রি শুরু হয়। দোকানঘরের বেশিরভাগ পাল্লা বন্ধ। ছোট একটি পাল্লা আলগা করে খোলা থাকে। সেই পাল্লা ঠেলে ক্রেতারা যাতায়াত করেন। দোকানের বাইরে সরঞ্জাম সাজিয়ে রাখা হয়। ভোর থেকে শুরু করে রাতেও অন্তত ১০টি দোকানে এভাবে মদ বিক্রি চলে। চায়ের দোকানের পাশাপাশি ফাস্ট ফুডের দোকান ও ভাতের হোটেলে মদ বিক্রি হয়। দোকানের পাশে কিছুটা আড়ালে খালি মদ ও জলের বোতল ও ব্যবহার্য প্লাস্টিকের গ্লাস রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে পুলিশি অভিযান হয়। তারপর ক’দিন ঠিকঠাক চলে। ফের চিত্র বদলে যায়। ভোটপট্টির এক বাসিন্দার কথায়, ‘ভোর চারটায় কলকাতা থেকে নিউ ময়নাগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে নামলাম। স্টেশন থেকে বেরিয়ে এসে বাজারে চায়ের দোকান খোলা দেখে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি চা নয় মদ বিক্রি হচ্ছে।’ ময়নাগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মনোজ রায় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে কড়া পদক্ষেপ করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্টেশন বাজার থেকে শহরের মূল বাজারের দূরত্ব এক কিলোমিটার। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০টি দোকান আছে। এছাড়া ফুটপাথে বাড়তি কয়েকটি দোকান বসে। একসময় এলাকাবাসী সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের জন্য এই বাজারে আসত। বেআইনি মদ বিক্রি ও মাতালদের অশ্রাব্য গালিগালাজ এড়াতে বর্তমানে তাঁরা মুখ ফিরিয়েছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা মন্দার কারণ হিসাবে মদ বিক্রিকে দায়ী করেছেন। কেউ কেউ ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ব্যবসায়ীদের কোনও কমিটি নেই। দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, এই বাজারে ক্রেতাদের দেখা মেলে না। দিনের বেলায় মহিলারা এই পথ মাড়ান না। সন্ধের পর তো দূরের কথা। সেকারণে দোকান প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। ঘুরে ঘুরে সামগ্রী বিক্রি করছেন। স্থানীয় পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বর্ণালি বাড়ুইয়ের বক্তব্য, ‘প্রশাসনকে জানিয়ে মহিলাদের নিয়ে অভিযান চালানো হবে।’
