উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজস্থানের একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে সোজা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কার্যালয়—পথটা মোটেও সহজ ছিল না, কিন্তু জেদ আর পরিশ্রমের জোরে আজ অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন মেজর নব্যা শেখাওয়াত (Main Navya Shekhawat)। স্বাধীন ভারতের সামরিক ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে তিনি এখন দেশের আপামর তরুণ প্রজন্মের আইকন। রাষ্ট্রপতির (President of India) ‘এইড-দ্য-ক্যাম্প’ বা এডিসি (ADC) হিসেবে ভারতীয় সেনা থেকে প্রথম কোনও নারী কর্মকর্তা এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। রাইসিনা হিলসের অলিন্দে তাঁর এই পদার্পণ যেন দেশের নারী শক্তির মুকুটে এক নতুন এবং উজ্জ্বল রত্ন যোগ করল।
রাজস্থানের সিকার জেলার কেরপুরা গ্রামের সাধারণ এক পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন নব্যা। দেশের সেবা করার ব্রত নিয়ে তিনি কঠিন ‘কম্বাইনড ডিফেন্স সার্ভিসেস’ বা সিডিএস পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন। এরপর চেন্নাইয়ের মর্যাদাপূর্ণ অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে কঠোর প্রশিক্ষণ শেষ করে ২০২১ সালে তিনি আর্মি সার্ভিস কর্পসে কমিশন লাভ করেন। সেনাবাহিনীর এই বিশেষ শাখাটি রসদ সরবরাহ, লজিস্টিকস এবং পরিবহনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলিয়ে পুরো বাহিনীকে সচল রাখে। সেই ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় নিজের কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে মেজর পদে উন্নীত হন তিনি। আর এর ঠিক পরেই এল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত—রাষ্ট্রপতির এডিসি হিসেবে তাঁর নিয়োগ। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই রাষ্ট্রপতি ভবনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের এই গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন নব্যা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে নৌবাহিনীর লেফটিনেন্ট কমান্ডার যশস্বী সোলাঙ্কি প্রথম নারী কর্মকর্তা হিসেবে এই পদে নিযুক্ত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। হরিয়ানার এই কৃতি কন্যা ২০১২ সালে নৌসেনায় যোগ দিয়ে লজিস্টিকস শাখায় শর্ট সার্ভিস কমিশনের অধীনে কাজ করছিলেন। তাঁর সেই পথ ধরেই এবার ভারতীয় সেনা থেকে প্রথমবার এই সাফল্যের মুকুট পরলেন মেজর নব্যা। ঐতিহ্যগতভাবে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির জন্য পাঁচজন এডিসি থাকেন, যার মধ্যে তিনজন আসেন সেনা থেকে এবং বাকি দুজন যথাক্রমে নৌ ও বায়ুসেনা থেকে। সেই ত্রি-বাহিনীর এই লিয়াজোঁ বা সমন্বয়ের কাজটিতেই এখন যুক্ত হলেন নব্যা।
একজন এডিসি কেবল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতই থাকেন না, বরং সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রক এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগের মূল সেতু হিসেবে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন প্রোটোকল সামলানো, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক পরিচালনা এবং প্রতিটি দাপ্তরিক কার্যসূচিতে নিখুঁত সমন্বয় বজায় রাখার দায়িত্ব থাকে এই তরুণ সামরিক আধিকারিকদের কাঁধেই। ফলে এই পদটি নিছক কোনও আলংকারিক দায়িত্ব নয়, বরং চরম দক্ষতা, বিচক্ষণতা এবং শৃঙ্খলার পরীক্ষা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও যখন আজ নারীর ক্ষমতায়ন এবং সম অধিকারের জয়জয়কার, ঠিক তখনই নব্যার এই উত্থান প্রমাণ করে দিল যে সুযোগ পেলে কঠোর পরিশ্রমে মেয়েরাও যে কোনও উচ্চতা ছুঁতে পারে। মরুশহরের সাধারণ মাটি থেকে উঠে এসে আজ রাইসিনা হিলসের আলোয় যেভাবে নব্যা শেখাওয়াত নিজের নাম খোদাই করলেন, তা আগামীদিনে দেশের লাখ লাখ তরুণীকে নতুন স্বপ্ন দেখতে এবং তা পূরণ করতে উদ্দীপ্ত করবে।

