Falta Repoll | কেন ময়দান ছাড়লেন স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির? নেপথ্যে কি দলের মুখরক্ষা করার তাগিদ

Falta Repoll | কেন ময়দান ছাড়লেন স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির? নেপথ্যে কি দলের মুখরক্ষা করার তাগিদ

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মাসখানেক আগেই রণংদেহী মেজাজে গর্জে উঠেছিলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের দাপুটে আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার (Ajay Pal Sharma IPS) হুঁশিয়ারির জবাবে প্রকাশ্য জনসভায় বুক ঠুকে বলেছিলেন, “তুমি যদি সিংহম হও, তবে আমি পুষ্পা! পুষ্পা রাজ কভি ঝুঁকেগা নেহি!” কিন্তু ভোটের ময়দানে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল উল্টো ছবি। আগামী ২৩ মে দক্ষিণ ২৪ পারগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাই-ভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের (Falta Repoll) ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে কার্যত মাথা নুইয়ে ময়দান ছাড়লেন সেই ‘পুষ্পা’ ওরফে তৃণমূলের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান। তাঁর এই আকস্মিক ও নাটকীয় সিদ্ধান্তে খোদ ঘাসফুল শিবিরের নিচুতলার কর্মীরাই এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

২০১১ সাল থেকে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি তৃণমূলের অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তার ওপর এই এলাকাটি তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। গত ২৯ এপ্রিলের ভোটে এখানে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি ছিল, ইভিএমে তাদের প্রতীকের ওপর কালি লেপে ও টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন ২৩ মে পুনর্নির্বাচনের (South 24 Parganas Meeting Repoll) নির্দেশ দেয়।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে (West Bengal Election Outcomes 2026) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় চলে এসেছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভরাডুবির পর নিজের খাসতালুকে আরও একটি লজ্জাজনক হার এড়াতেই কি তবে সুকৌশলে জাহাঙ্গিরকে পিছু হঠার নির্দেশ দিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব? সমীকরণটা খুব সহজ—লড়াইতে না থাকলে হারের দায়ও গায়ে লাগে না! অনেকটা পরীক্ষা না দিয়ে ‘আমি তো ফেল করিনি’ বলে দাবি করার মতো চাল চেলেছে ঘাসফুল শিবির।

বাস্তবতা হলো, গত কয়েকদিন ধরে ফলতার মাটিতে জাহাঙ্গির খান ছিলেন সম্পূর্ণ একাকী। তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ফলতা পঞ্চায়েতের সহ-প্রধান সাইদুল খান খুনের চেষ্টা ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। জাহাঙ্গিরের নিজের নামেও একাধিক এফআইআর হয়, যার জেরে তিনি কিছুদিন গা ঢাকাও দিয়েছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তায় তিনি প্রচারে ফিরলেও, তাঁর সমর্থনে একটাও সভা বা রোড শো করতে আসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দল যে তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছে, তা বুঝে গিয়েই হয়তো লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া ছাড়া ‘একাকী’ জাহাঙ্গিরের কাছে কোনো পথ খোলা ছিল না।

মঙ্গলবার অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জাহাঙ্গিরকে দেখল ফলতা। সেই পুরোনো চেনা দাপট উধাও। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, “আমি ফলতার সন্তান, এখানে শান্তি চাই। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তাই আমি সরে দাঁড়াচ্ছি।”

যদিও জাহাঙ্গিরের এই ‘উন্নয়ন তত্ত্ব’কে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে রোড শো করতে করতে শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় কটাক্ষ করেন, “কোনো পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাচ্ছিল না জাহাঙ্গির। তাই মুখ পুড়বে জেনেই ও ময়দান ছেড়ে পালিয়েছে।”

তৃণমূল লড়াই ছাড়লেও ২৩ মে ফলতায় ভোটগ্রহণ হবেই। কারণ ময়দানে এখনও রয়েছে বামেদের শম্ভু কুর্মি ও কংগ্রেসের আব্দুর রাজ্জাক। তবে জাহাঙ্গিরের এই পিছু হঠার পর, বিজেপির দেবাংশু পণ্ডার জয় যে এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, তা একপ্রকার নিশ্চিত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *