উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিহারে (Bihar) দুর্ঘটনার কবলে আলিপুরদুয়ার থেকে দিল্লিগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস (১৫৪৮৩) (Mahananda Categorical)। লাইনচ্যুত (Derailed) হয়েছে ট্রেনটির ইঞ্জিন ও দু’টি কামরা। রবিবার ভোরে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়-দানাপুর রেল বিভাগের আরা স্টেশন (Ara Station) সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ট্রেনটির গতি কম থাকায় বড়সড়ো প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে রেল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৪টে ১২ মিনিটে ট্রেনটি আরা স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছায়। এরপর স্টেশন ছেড়ে সামান্য এগোতেই ট্রেনটির ইঞ্জিন, একটি এসএলআর এবং একটি এইচ ১ কামরা লাইনচ্যুত হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট দিল্লি যাওয়ার লাইনের পরিবর্তে ট্রেনটি ভুলবশত সাসারাম যাওয়ার লাইনে ঢুকে পড়েছিল। মূলত ভুল সিগন্যালের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই আরা স্টেশন ম্যানেজার এনকে রাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। যদিও স্টেশন ম্যানেজারের দাবি, এই ঘটনায় তাঁর কোনও হাত নেই, বরং চালকের গাফিলতি থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ খুঁজতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এই লাইনচ্যুতির জেরে ব্যস্ত দিল্লি-হাওড়া রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, বিভূতি এক্সপ্রেস, গান্ধীধাম এক্সপ্রেস, গরিব রথ এবং উধনা এক্সপ্রেস সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে চলাচল করছে। তবে ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তৎপর হয় রেল প্রশাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে লাইন মেরামত করে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও কামরাগুলিকে সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পূর্ব-মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সরস্বতী চন্দ্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার নেপথ্য আসল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যার বা যাদেরই গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

