চৌধুরীহাট: দিনহাটায় ভবঘুরে খুনের (Dinhata Homicide Reconstruction) ঘটনার তদন্তে বড়সড়ো সাফল্য পেল পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মূল অভিযুক্ত ফিরদৌস আলমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হলো। একইসঙ্গে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত সেই ধারালো অস্ত্রটিও। মানুষের মাংস খাওয়ার উন্মাদনা থেকে খুনের যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছিল, এদিন তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।
এদিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ এলাকায় পৌঁছান দিনহাটা (Dinhata Information) মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র, সিআই মহিম অধিকারী এবং নয়ারহাট তদন্ত কেন্দ্রের আধিকারিকরা। অভিযুক্ত ফিরদৌস কীভাবে ওই ভবঘুরেকে হত্যা করেছিল, তা বোঝার জন্য একটি ‘ডামি’ পুতুল ব্যবহার করা হয়। অভিযুক্তের দেখানো জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে তার বাড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা একটি পুকুর থেকে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ১০ জানুয়ারি এক অজ্ঞাতপরিচয় ভবঘুরের গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়েছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফিরদৌস আলমকে গ্রেপ্তার করে নয়ারহাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ (Nayarhat Police)। গত ১২ জানুয়ারি তাকে আদালতে পেশ করে চারদিনের হেপাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশি হেপাজতে জেরা চলাকালীন অভিযুক্ত ফিরদৌস যে তথ্য দিয়েছে, তাতে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদেরও। ধৃত যুবক স্বীকার করেছে যে, মানুষের মাংস খাওয়ার অদম্য ইচ্ছা বা লালসা থেকেই সে ওই ভবঘুরেকে খুন করেছিল। এই বিচিত্র ও হাড়হিম করা অপরাধের ধরনটি সামনে আসতেই গোটা এলাকায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
