Madan Mitra ED Raid | পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে সাতসকালে বড় অ্যাকশন! মদন মিত্রের বাড়ি ও দপ্তরসহ কলকাতার ৭ জায়গায় হানা ইডির  

Madan Mitra ED Raid | পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে সাতসকালে বড় অ্যাকশন! মদন মিত্রের বাড়ি ও দপ্তরসহ কলকাতার ৭ জায়গায় হানা ইডির  

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্যে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Madan Mitra ED Raid)। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী শহরতলির মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। এই অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু কামারহাটির হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। ভবানীপুরে তাঁর নিজস্ব বাসভবন এবং সংলগ্ন দফতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ইডি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কামারহাটিসহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বিভিন্ন পদে বেআইনিভাবে ও অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে মদন মিত্রের সরাসরি ভূমিকা ছিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন পুরসভায় অন্তত ১২৫টিরও বেশি বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে এই তৃণমূল বিধায়কের। অভিযোগ উঠেছে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। এই লেনদেন কখনও নগদ টাকায়, আবার কখনও সোনাদানার মাধ্যমে করা হয়েছে।

গোয়েন্দাদের অনুমান, মদন মিত্র সরাসরি এই ঘুষের টাকা বা সোনা গ্রহণ করেননি। তাঁর বিশ্বস্ত কিছু ‘মিডলম্যান’ বা এজেন্টের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। বর্তমানে সেই সমস্ত মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা ও পরিচয় খতিয়ে দেখছে ইডি।

স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই প্রোমোটার অয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করেছিল। সল্টলেকে অয়নের দপ্তরে তল্লাশি চালিয়েই উদ্ধার হয় বিভিন্ন পুরসভার চাকরিপ্রার্থীদের উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট (OMR Sheet)। সেখান থেকেই পুরনিয়োগ দুর্নীতির এই বিশাল সাম্রাজ্যের হদিস মেলে, যার তদন্তভার এখন ইডির হাতেও রয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে শুধুমাত্র মদন মিত্রের ভবানীপুরের বাড়ি বা দপ্তরেই নয়, পুরনিয়োগ দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে ইডির আলাদা আলাদা টিম একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে ভবানীপুর (মদন মিত্রের বাড়ি ও দপ্তর), কামারহাটি, দক্ষিণেশ্বর, বেলেঘাটা, জোকা ও বেহালায়।

 প্রসঙ্গত, কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে কেন্দ্রীয় সংস্থা হেনস্থা করছে— এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাত থেকেই তীব্র সরব হয়েছিলেন মদন মিত্র। প্রতিবাদস্বরূপ তিনি ওই পুরসভার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে একযোগে পদত্যাগের নির্দেশও দেন। একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, আগামী নির্বাচনেও পুরসভায় ফের তৃণমূলের পতাকাই উড়বে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, শনিবার ভোরে খোদ বিধায়কের বাড়িতে ইডির হানা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মদন মিত্র প্রথমবার কামারহাটি থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০২১ এবং সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি ওই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। ফলে কামারহাটি পুরসভা ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর যে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, বেআইনি নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *