Maa Aahar closed | সাতদিন ধরে তালাবন্ধ ‘মা আহার’, ফালাকাটা হাসপাতাল চত্বরে সংকটে দুঃস্থরা

Maa Aahar closed | সাতদিন ধরে তালাবন্ধ ‘মা আহার’, ফালাকাটা হাসপাতাল চত্বরে সংকটে দুঃস্থরা

শিক্ষা
Spread the love


ফালাকাটা: ফালাকাটা হাসপাতালে (Falakata Hospital) কিংবা কাছেপিঠে কোথাও নানা কাজে আসা গরিব মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। কারণ হাসপাতাল চত্বরে থাকা মা ক্যান্টিন (Maa Canteen) তথা মা আহার (নয়া সরকারের দেওয়া নাম) (Maa Aahar closed) এক সপ্তাহ ধরে তালাবন্ধ। স্বাভাবিকভাবেই দুপুরের আহার মিলছে না সেখানে। যেতে হচ্ছে হোটেলে। এই ক্যান্টিন চালানোর দায়িত্বে ছিল একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। তারা দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াতেই নাকি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীটি পুরসভার কাছে ক্যান্টিনের খরচ বাবদ আড়াই লক্ষ টাকা পায়। সেটা মেটায়নি পুরসভা। পাশাপাশি, নতুন করে দায়িত্বও কেউ নেয়নি।

ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান অভিজিৎ রায় বলেন, ‘আগের দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীটি সরে যাওয়াতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা তাদের বকেয়া মেটানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছি। একটি নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী ক্যান্টিন চালানোর জন্য আবেদন জমা করেছে। আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখছি।’

এতদিন ক্যান্টিন চালানোর দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নেত্রী তথা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জয়ন্তী বর্মনের বক্তব্য, তাঁদের ক্যান্টিন চালানোর মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। তাছাড়া এখন সরকার বদলে যাওয়ায় সবকিছুই নতুন করে হচ্ছে। তাই তাঁরা আগাম দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর সংযোজন, ‘আমাদের দু’মাসের বিল বকেয়া আছে। আমরা বিল পেতে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে কথা বলব।’

১ জুন থেকে ফালাকাটা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে থাকা ক্যান্টিনটির ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। ক্যান্টিনের সবক’টি ঘর তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরের ভেতর রান্নার বাসনপত্র সহ অনেককিছুই আছে। কিন্তু হঠাৎ করে দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ক্যান্টিন চালানো বন্ধ করে দিল কেন? জানা গিয়েছে, ফালাকাটা কমিউনিটি হলে আরেকটি ক্যান্টিন চলে। সেটা অতিমারির সময় খোলা হয়েছিল। ক্যান্টিনের জনপ্রিয়তা দেখে বিদায়ি সরকারের আমলে ফালাকাটা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে গত ডিসেম্বরে আরেকটি ক্যান্টিন খোলা হয়। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদলের পর কমিউনিটি হলে থাকা মা ক্যান্টিনের দায়িত্ব দখল করে বিজেপির মহিলা মোর্চা। তারপর থেকে কমিউনিটি হলের ক্যান্টিন মোর্চার মহিলারাই চালাচ্ছেন। যেভাবে কমিউনিটি হলের মা ক্যান্টিনের দখল নিয়েছিলেন মহিলারা, তাতে নাকি হাসপাতাল চত্বরে থাকা ক্যান্টিনের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শেষে ক্যান্টিন বন্ধ করেই তাঁরা চলে যান।

ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় এখন চরম সমস্যায় পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগী ও পরিজনরা। শহরের টোটোচালক সঞ্চয় দেবনাথ বলেন, ‘সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করি। দুপুরে হাসপাতাল চত্বরেই ৫ টাকার বিনিময়ে এতদিন ভাত, ডিম খেতাম। কিন্তু এখন ক্যান্টিন বন্ধ। সবার স্বার্থে এটা চালু করা দরকার।’ ভ্যানচালক অমিয় বর্মনের মন্তব্য, ‘হাসপাতাল চত্বরে খাবার না পেয়ে রোজ কমিউনিটি হলের ক্যান্টিনে যাচ্ছি। আবার কুপন সঠিক সময়ে না পেলে ডিমভাত পাওয়া যায় না। আমরা চাই ফের এই হাসপাতালে ক্যান্টিন চালু হোক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *