Harishchandrapur | জাল আধার চক্রের রমরমা! সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতেই তৈরি হচ্ছিল ‘ভারতীয় পরিচয়পত্র’?

Harishchandrapur | জাল আধার চক্রের রমরমা! সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতেই তৈরি হচ্ছিল ‘ভারতীয় পরিচয়পত্র’?

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


হরিশ্চন্দ্রপুর: শুধু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা রোজগার নয়, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাতেও পৌঁছে যেত ভারতীয় আধার নম্বর। জাল আধার চক্রের তিন পান্ডাকে গ্রেপ্তার করে এমনই কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ (Harishchandrapur Police)। সম্প্রতি বাংলা-বিহার সীমানা লাগোয়া হরিশ্চন্দ্রপুরের (Harishchandrapur) সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শরণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল আধার তৈরির ঠিকানা থেকে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে ওমর ফারুক হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁর বাড়িতেই চলত আধার তৈরি। ধৃত বাকি দুজন হল বিহারের আমদাবাদ থানা এলাকার রাজুকুমার শর্মা এবং হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বারোয়ারি এলাকার বাসিন্দা অঙ্কিতকুমার শর্মা। ধৃত তিনজনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে বিহারের রাজুকুমারের আইডি ব্যবহার করেই সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে খোলা হয়েছিল সিএসপি কেন্দ্র এবং এখানে বেআইনিভাবে তৈরি হত আধার।

সরকারি আধারের আইডি নিয়ে কোথাও বেসরকারিভাবে আধার তৈরি করা যায় না। ফলে ধৃতদের হাতে কীভাবে সরকারি আইডি এল, কীভাবেই বা সরকারি সাইটে লগ ইন করার অধিকার পেল, চক্রটি এখন পর্যন্ত কত আধার তৈরি করেছে এবং ওই আধার কারা ব্যবহার করছে, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ জানতে পেরেছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বিহার লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে একাধিক সিএসপি রয়েছে। বিহারের কিছু তরুণ বেআইনিভাবে সরকারি আইডি ব্যবহার করে কেন্দ্রগুলি চালাচ্ছে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায়। মালদায় কোনও বেসরকারি আধার কেন্দ্র না থাকায় বাড়তি টাকা খরচ হলেও অনেকে এমন সিএসপিতে ভিড় জমান। এমন কেন্দ্রগুলিতে নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, মোবাইল ফোনের নম্বর পরিবর্তনে ৮০০ টাকা এবং নতুন আধার তৈরিতে গুনতে হয় ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। যে কারণে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে থাকে আইডি স্ক্যানার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার সহ প্রয়োজনীয় সমস্তকিছুই। উল্লেখ্য, গত বছর বিহার সীমান্তবর্তী হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা এলাকাতেও একটি বেআইনি আধার কেন্দ্রের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বেশ কয়েকজনকে। এমন আইডি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জিপিএস লোকেশন কাছাকাছি প্রয়োজন থাকায় বিহারের চক্রটি হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা বেছে নিয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএসপি মালিক বলেন, ‘টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আধার তৈরির আইডি বিক্রি হচ্ছে। আইডি কেনার প্রস্তাব আমার কাছেও এসেছিল। কিন্তু বেআইনি হওয়ায় নিইনি।’

ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার ওমর ফারুকের স্ত্রী ফারহানা রহমানি সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য। যে কারণে এমন কেন্দ্রগুলি চলার পিছনে তৃণমূলের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল নেতাদের মদত না থাকলে বেআইনি আধার সেন্টার গজিয়ে উঠত না। তৃণমূল নেতাদের জন্য এলাকার গরিব মানুষকে আধার তৈরিতে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সরকারি সেন্টার না থাকায় অসাধু চক্র ফায়দা লুটছে।’ যদিও জেলা তৃণমূলের নেত্রী চৈতালি সরকার বলেন, ‘আইন আইনের মতো চলবে। এই সমস্ত বেআইনি আধারের কাজে যদি তৃণমূলের কেউ জড়িত থাকে, তবে দল তাঁকে প্রশ্রয় দেবে না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *