উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের সমস্ত চেষ্টা ভেস্তে দিয়ে এবং সংঘর্ষবিরতি চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের লেবাননে ভয়াবহ হামলা (Lebanon Assault) চালাল ইজরায়েলি (Israel) বাহিনী। বুধবার থেকে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক জনপদে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইজরায়েল। আর এই হামলার জেরেই প্রাণ হারিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনীর (UNIFIL) এক সেনা। পাশাপাশি গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুই শান্তিসেনা।
লেবাননে নিযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম ফোর্স ইন লেবানন’ (Lebanon) (ইউনিফিল) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের মারজাইউনের কাছে অবস্থিত তাদের একটি শিবিরে আচমকাই গোলাবর্ষণ করা হয়। তাতেই ওই সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের চরম ও গুরুতর লঙ্ঘন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘ইউনিফিল’। প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে শুধুমাত্র লেবাননের সামরিক বাহিনী এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনীই সক্রিয় থাকতে পারবে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই ইজরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিক ভাবে সেই আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘন করে চলেছে বলে অভিযোগ। রাষ্ট্রপুঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবানন ভূখণ্ডে হওয়া এই হামলায় গুরুতর জখম বাকি দুই শান্তিসেনাকে ‘ইউনিফিল’ পরিচালিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সরাসরি ইজরায়েলি সেনার নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ পর্বে গাজা যুদ্ধের আবহেই ইরানের মদতপুষ্ট শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছিল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সেনা। এর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজরায়েলি হানার পালটা প্রত্যাঘাত হানে হিজবুল্লাও। জবাবে রাজধানী বেইরুট-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় তেল আভিভ। ইজরায়েলি আগ্রাসনের জেরে লেবাননে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। একই সঙ্গে সেখানে মোতায়েন রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে। ভারত-সহ বিশ্বের অন্তত ৩০টি দেশ এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও, ইজরায়েলি সেনা যে তা মানছে না, মঙ্গল ও বুধববারের এই হামলাই তার প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
