উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : আইআরসিটিসি (IRCTC) দুর্নীতি মামলায় ফের ধাক্কা খেলেন আরজেডি সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। নিম্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করল দিল্লি হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পর্যায়ে সিবিআইয়ের বক্তব্য না শুনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেওয়া সম্ভব নয়।
আদালতের অবস্থান: নিম্ন আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেই বিচারপ্রক্রিয়া থামানোর আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন লালুপ্রসাদ। কিন্তু সোমবার বিচারপতি জানান, তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর জবাব শোনা এই মুহূর্তে জরুরি। আদালত এই বিষয়ে সিবিআই-এর মতামত জানতে চেয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
অভিযোগের নেপথ্যে: অভিযোগটি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের, যখন লালুপ্রসাদ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, রাঁচী ও পুরীর দুটি আইআরসিটিসি হেরিটেজ হোটেলের রক্ষণাবেক্ষণের টেন্ডার একটি বেসরকারি সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ জমি ‘উপহার’ নিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার। ২০২২ সালে এই মামলায় চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। গত বছরের অক্টোবর মাসে দিল্লির নিম্ন আদালত লালুপ্রসাদ, তাঁর স্ত্রী রাবড়ী দেবী এবং পুত্র তেজস্বী যাদবসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে চার্জ গঠন করে।
জমি কেলেঙ্কারি ও বিচার: দুর্নীতির এই তালিকায় কেবল হোটেল টেন্ডার নয়, রয়েছে রেলের গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগও। যদিও লালুপ্রসাদ প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করে আসছেন। আপাতত উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ না মেলায় নিম্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে কোনো বাধা রইল না।
