শিলিগুড়িঃ বাবার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক তরুণী। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ছয়টা নাগাদ ওই তরুণী শিলিগুড়ির ফুলেশ্বরী বাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। ঘটনার পর তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও ওই তরুণীর কোনও খোঁজ না মেলায় চিন্তায় রয়েছে পরিবার। শারীরিকভাবে অসুস্থ মেয়েটিকে খুঁজতে পুলিশ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ওই তরুণীর নাম নিতা সরকার (২৫)। ২০১৯ সাল থেকে ব্রেইন টিউবার কিউলেসিসে (টিবি) আক্রান্ত সে। নিখোঁজ হওয়ার সময় তরুণীর কাছে কোনও মোবাইল ফোনও ছিল না। তাই তরুণীর পরিবারের দাবি, তাঁকে অপহরণ করা হতে পারে। ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তরুণীর মাসি অদিতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘২০১৯ থেকে নিতার চিকিৎসা চলছে। তখন থেকে ও বাড়িতেই থাকে। যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত সেটা বাড়ির সবাই ব্যবহার করত। কারও সঙ্গে কোন সম্পর্কও ছিল না। কেউ কোথাও না নিয়ে গেলে একা তো কোথাও যাবে না।’
শিলিগুড়ির ফুলেশ্বরী বাজার সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি ওই তরুণীর। পাশেই তাঁর বাবার দশকর্ম ভাণ্ডারের দোকান রয়েছে। বাড়ি থেকে দোকানের দূরত্ব মিনিট খানেকের। বাবা দোকান থেকে বাড়িতে আসলে ওই তরুণী দোকানে বসতেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নিতাকে দোকানে বসিয়ে বাড়িতে আসেন তাঁর বাবা। বাড়ি থেকে ফের দোকান ফিরে মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন নিতা। কিন্তু মিনিট দশেক হয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় তাঁর মা খোঁজ করতে দোকান যায়। কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখেন মেয়ে নেই। এরপরেই এলাকাজুড়ে নিতার খোঁজ শুরু হয়। ঘরে গিয়ে দেখা যায় তাঁর মোবাইল ফোন বাড়িতেই রয়েছে। রাতভর খোঁজ না পেয়ে শনিবার শিলিগুড়ি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি করেন পরিজনেরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিতার কোনও খোঁজ নেই।
এদিকে, ব্রেইন টিবিতে আক্রান্ত হওয়ায় নিতার প্রতিদিন ওষুধের প্রয়োজন। একদিন ওষুধ না খেলেই নিতার মাথা ব্যথা শুরু হয়। ধিরে ধিরে সে সমস্ত স্মৃতি ভুলতে থাকে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। তাই মেয়েকে নিয়ে অনেক বেশি চিন্তায় পরিবার। তরুণীর দাদা অভিষেক সরকারের বক্তব্য, ‘আমাদের মনে হচ্ছে বোনকে অপহরণ করা হয়েছে। ও অন্য কোথাও যেতে পারে না। কারণ বাড়ি থেকে শুধুমাত্র বাবার দোকানেই একা যায়। অসুস্থ হওয়ায় সবসময় পরিবারের কেউ না কেউ ওঁর সঙ্গে থাকে।’
