প্রতাপকুমার ঝাঁ, জামালদহ: আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে রাজবংশী সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই দুইদিনের ‘গচিবুনা ভাওয়াইয়া উৎসব’ হল মেখলিগঞ্জের (Mekhliganj) জামালদহ লালস্কুল ময়দানে। এবার উৎসবের অষ্টম বর্ষ। একঝাঁক স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে জমজমাট ছিল উৎসব প্রাঙ্গণ।
রাজবংশী সংস্কৃতি অনুসারে, জমিতে ধান ও তামাক রোপণের সময় শস্যের দেবীর উদ্দেশ্যে যে পুজো হয় তাই হল গচিবুনা। সেই পুজোর নামানুসারেই এই উৎসবের নাম ঠিক করা হয়। এবারের মঞ্চের নামকরণ হয় বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া সংগীতশিল্পী তথা গীতিকার স্বর্গীয় সিদ্ধেশ্বর রায়ের স্মৃতিতে। এছাড়া কবিরত্ন শ্যামাপ্রসাদ বর্মনের নামে তোরণ তথা নগরীর নামকরণ হয়।
শনিবার অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে মঞ্চে বিশিষ্ট অতিথিদের হলদিয়া গামছা দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্য অতিথি বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া সংগীতকার কামেশ্বর রায়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী, স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য কেশবচন্দ্র বর্মন, জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গীতা বর্মন প্রমুখ। ভাওয়াইয়া গান ছাড়াও তুক্ষা, মেচেনি, কুষান নৃত্য পরিবেশিত হয়। রবিবার মূল অনুষ্ঠানে খ্যাতনামা ভাওয়াইয়াশিল্পী দীপক বর্মন, সোনালি বর্মন প্রমুখ মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন। এছাড়াও ভাওয়াইয়া গানের চটকা ও দরিয়া বিভাগের উপর একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে বহিরাগত শিল্পীরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল রাজবংশী জনজাতির নিজস্ব খাবারের স্টলও। শিদলের অ্যাওটা, শামুকের হোরপা, শুঁটকি মাছের ঝাল, ছ্যাকা, প্যালকা সহ নানা দেশীয় খাবারের সম্ভার ছিল এই স্টলের বিশেষ আকর্ষণ। শুধু ভাওয়াইয়া গানের টানেই নয়, রাজবংশী জনজাতির লোভনীয় এই খাবারের আকর্ষণে প্রচুর মানুষ এই উৎসবে শামিল হন। মাঠের এক কোণে রাজবংশী ভাষায় বিভিন্ন বইয়ের স্টল ছিল।
জামালদহ গচিবুনা ভাওয়াইয়া উৎসব কমিটির সভাপতি ডঃ কমল রায় বলেন, ‘রাজবংশী ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতেই প্রতি বছর আমরা এই আয়োজন করে আসছি। রাজবংশী জনজাতির সঙ্গে সকল ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসবে শামিল হন।’
