উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিভে (Kyiv air assault) বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই নেমে এল এক বিভীষিকাময় রাত। দীর্ঘ যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ও বড় আকারের আকাশপথে হামলা চালাল রাশিয়া (Russia)। একের পর এক আবাসিক ভবন ধূলিসাৎ হয়ে গেল ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের আঘাতে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৭ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং জখম হয়েছেন প্রায় ৯০ জন।
ইউক্রেনের (Ukraine) আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, রাশিয়া একযোগে ৭৪টি মিসাইল এবং ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছিল। এর মধ্যে অধিকাংশ ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, ২৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১২টি ড্রোন শহরের ৩৩টি ভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। রাজধানী কিভেই সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিপ্রো নদীর তীরে একটি নয়তলা আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যার নীচে এখনও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।
প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো এই আক্রমণকে ‘বড় আকারের কদর্য হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো শহরে শুক্রবার একদিনের শোক ঘোষণা করেছেন। গত বুধবার রাতে আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই আসন্ন হামলার সতর্কতা দিয়েছিলেন। কিন্তু রাশিয়ার এই বিপুল পরিমাণ আক্রমণ প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, তাদের এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা এবং বিমানবন্দর। মস্কোর দাবি, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার বদলা নিতেই এই ‘গণআক্রমণ’ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলে একটি তৈল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।
হামলার ভয়াবহতায় কিভের বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছেন ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন এবং বাঙ্কারগুলোতে। যুদ্ধ পরিস্থিতির চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই অমানবিক আক্রমণের জবাবে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।
এদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জেরে রাশিয়ার তৈল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়াকে এখন ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি করতে হচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষার জন্য মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহের আর্জি জানিয়েছেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা।

