Dakshin Dinajpur | টাকা না দিলে ১৮ বছর পর্যন্ত হোমে বন্দি! দক্ষিণ দিনাজপুরে নাবালককে ফেরাতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ

শিক্ষা
Spread the love


সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: শিশু সুরক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলায় প্রায় ১০ মাস ধরে নেই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। জেলা স্তরে কমিটি না থাকায় বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে এই সংক্রান্ত সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আর এই সংকট পরিস্থিতির মাঝে এবার সরকারি হোমে থাকা ১৬ বছরের এক কিশোরকে বাড়ি ফেরাতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল।

ওই কিশোরের পরিবারের দাবি, সাত-আট হাজার টাকা না দিলে দীর্ঘদিন কিশোরকে হোমেই রাখতে হবে বলে সিডব্লিউসির এক মহিলা কর্মী তাঁদের জানিয়েছিলেন। এরপর জেলা শাসকের দ্বারস্থ হয় পরিবারটি। শেষপর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কোনও রকম টাকা ছাড়াই কিছুদিন আগে কিশোরকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯ জুলাই। কুমারগঞ্জ (Kumarganj) ব্লকের একটি গ্রামের দশম শ্রেণির এক পড়ুয়া মাদ্রাসার হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। পরিবারের দাবি, পড়াশোনা করতে ভালো লাগছিল না ওই কিশোরের। তাই ১৯ জুলাই ভিনরাজ্যে যাওয়ার জন্য সে হস্টেল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মালদা স্টেশন (Malda Station) থেকে তাকে উদ্ধার করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। এরপর তাকে বালুরঘাটের একটি সরকারি হোমে পাঠানো হয়।

এরপর ছেলেকে বাড়ি ফেরাতে সিডব্লিউসি দপ্তরে যোগাযোগ করেন কিশোরের মা। অভিযোগ, সেখানেই এক মহিলা কর্মী টাকা দাবি করেন। বাড়ি ফিরে কিশোরের বাবাকে সমস্তটা জানান তিনি। এরপর ওই কিশোরের বাবা ওই মহিলা কর্মীকে ফোন করে টাকা কমানোর অনুরোধ করেন। ওই কর্মীর সঙ্গে ফোনে হওয়া কথোপকথন অন্য একটি মোবাইলে রেকর্ড করেন কিশোরের বাবা। সেই ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও উত্তরবঙ্গ সংবাদ ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা যায়, কথোপকথনের সময় কিশোরের বাবা আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে দু’হাজার টাকা দেওয়ার কথাও বলেন। অভিযোগ, তখন ওই মহিলা কর্মী জানিয়ে দেন, তাঁর ওপরে ম্যাডাম রয়েছেন। তিনি দুই হাজার টাকায় রাজি হবেন না। সম্পূর্ণ টাকা না দিলে কিশোরকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত হোমে থাকতে হতে পারে বলেও কথোপকথনে শোনা যায়। যদিও তিনি তাঁর ওপরে ম্যাডাম বলতে কাকে বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।

ওই ঘটনার পর ২২ জুলাই জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কিশোরের পরিবার। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের পর নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়ায় কোনও টাকা না নিয়ে কিশোরকে বাড়ি ফেরানো হয়।

এ বিষয়ে ওই কিশোরের বাবা বলেন, ‘আমি দুঃস্থ মানুষ। ছেলেকে ফেরানোর জন্য টাকা চাওয়া হয়েছিল। তাই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। এখন ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। তাই আর আমার কোনও অভিযোগ নেই।’

তবে হোমের ওই অভিযুক্ত কর্মী বা কোনও আধিকারিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার জন্য জেলা শাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ফলে টাকা চাওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং এর পেছনে কারও নির্দেশ ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে এই ঘটনায় শুধু টাকা চাওয়ার অভিযোগই নয়, প্রশ্ন উঠেছে জেলার শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো নিয়েও। জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ মাস ধরে দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন হয়নি। ফলে শিশু বা কিশোরদের উদ্ধারের পর তাদের হোমে পাঠানো, পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *