Kushmandi | জিআই তকমা পেলেও চরম অর্থকষ্টে কুশমণ্ডির মুখোশশিল্প! নেপথ্যে কী?

Kushmandi | জিআই তকমা পেলেও চরম অর্থকষ্টে কুশমণ্ডির মুখোশশিল্প! নেপথ্যে কী?

ব্লগ/BLOG
Spread the love


কুশমণ্ডি: চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) কুশমণ্ডির (Kushmandi) ঐতিহ্যবাহী মহিষবাথান গ্রামীণ হস্তশিল্প সমবায় সমিতি। ২০১৬ সালে এখানকার শতাব্দীপ্রাচীন কাঠের মুখোশকে কেন্দ্রীয় সরকার জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন (জিআই) (GI) তালিকাভুক্ত করার পর বিশ্বজুড়ে এর চাহিদা বাড়লেও, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে বড় কাজের বরাত হাতছাড়া হচ্ছে শিল্পীদের। একইসঙ্গে ব্যাংক ঋণ না মেলা এবং সরকারি স্তরে পাওনা টাকা আটকে থাকার কারণে তহবিলের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে কাঁচামাল কিনে আগে থেকে মুখোশ তৈরি করে রাখার উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে চরম ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে।

আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়েছে সমিতির নিজস্ব সংগ্রহশালা বা মিউজিয়ামেও। চার বছর আগেও যেখানে প্রচুর মুখোশ তৈরি করে রাখা হত এবং পর্যটকরা এসে সরাসরি কিনতেন, মূলধনের অভাবে এখন তা বন্ধ। শংকর দাস ও সাঞ্জুলাল সরকারের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকের দরজায় ঘুরেও কোনও ঋণ মেলেনি। এমনকি বিধায়ক থাকাকালীন রেখা রায়কে জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। শিল্পী শংকরের আক্ষেপ, ‘আগামীদিনে হয়তো সমবায় সমিতির দরজা রোজই খুলবে, কিন্তু অভাবের তাড়নায় কোনও শিল্পী আর মুখোশ বানাবেন না। ফলে বাইরে থেকে আসা মানুষজন বিস্মিত হলেও, শিল্পীদের অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’

আর্থিক সংকটের কারণে ইতিমধ্যেই অনেক শিল্পী সমবায় সমিতি থেকে বেরিয়ে বাড়িতেই মুখোশ তৈরি করছেন, আবার অনেকে এই পেশাই ছেড়ে দিয়েছেন। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা পরেশচন্দ্র সরকার বলছেন, ‘বড় মাপের কাজের জন্য বিপুল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন। কিন্তু কাঠের জন্য গাছ কিনতে নগদ টাকার প্রয়োজন, যা বাকিতে পাওয়া যায় না। এরপর গাছ চেরাই করে সমিতিতে আনা, প্রতি বছর রংতুলির আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধি এবং খুচরো বাজার থেকে চড়া মূল্যে তা কেনা, সবমিলিয়ে খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, মুখোশ তৈরির পর খোলা বাজারে শিল্পীর পারিশ্রমিক ও মুখোশের মূল্য নগদে পাওয়া গেলেও, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সেই টাকা কয়েক মাস ধরে আটকে থাকে। ফলে সমিতির তহবিল শূন্য হয়ে পড়ে। এতদিন সুদের ওপর টাকা নিয়ে কাজ চললেও, এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কুশমণ্ডির বর্তমান বিধায়ক তাপসচন্দ্র রায়ের দাবি, ‘মুখোশশিল্পের বিকাশে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার কোনও অভাব নেই। শিল্পীদের সঙ্গে শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’ তবে এই শিল্পে কবে সুদিন ফিরবে, তা স্পষ্ট হচ্ছে না কিছুতেই। বিধায়ক বলছেন, ‘গত ১৫ বছরে যে সমস্ত কাজ থমকে ছিল, তা মাত্র দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *