Kunjnagar | কথা রাখেনি বাম-বিজেপি-তৃণমূল কেউই! শ্রী হারিয়েছে কুঞ্জনগর পার্ক    

Kunjnagar | কথা রাখেনি বাম-বিজেপি-তৃণমূল কেউই! শ্রী হারিয়েছে কুঞ্জনগর পার্ক    

শিক্ষা
Spread the love


সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ময়রা নদীর নীল-সাদা রংয়ের সেতু পেরিয়ে বাইক নিয়ে ৫০০ মিটার উত্তরে গেলেই জলদাপাড়া বনাঞ্চল। তারপর কুঞ্জনগর প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার (Kunjnagar)। কুঞ্জনগর নামের লেখা সাইনবোর্ডের চারপাশে শ্যাওলার ছাপ। প্রবেশদ্বারে গেটের হাতলে মরচে ধরেছে। পাশেই এক সময় ফলের দোকান দিয়ে সংসার চালাতেন প্রদীপ বিশ্বাস। তিনি এখন পেশা বদলেছেন। বাঁ দিকে শিশু উদ্যান। খেলনাগুলিও ভাঙাচোরা। উত্তরদিকে আরও একটু এগিয়ে যেতেই ওয়াচটাওয়ার৷ সিঁড়ির হাতল ভাঙা। বুড়িতোর্ষার পাশে পড়ে শ্যাওলা ধরা বোট।  নদীতে একসময় বোটিং হত। আর নদীর অপর প্রান্তেই জলদাপাড়া বনাঞ্চল। আরও কিছুটা দূরে ছোট ছোট একাধিক কুটিরে ছিল টিয়া সহ নানা প্রজাতির পাখিদের বাস৷ শিশু উদ্যানের উত্তরদিকে একটু নীচু জায়গায় রাখা হত কুমির। চৌবাচ্চাগুলি এখনও রয়েছে। ঝোপঝাড়ে ঢেকেছে৷ সামনে এগিয়ে গেলেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তারজালি দিয়ে ঘেরা একটি জায়গায় থাকত হরিণের পাল। দুটি স্থানে রাখা ছিল চিতাবাঘ। ঝুলন্ত সেতু এখনও রয়েছে। এখন পশুপাখি বলতে কিছুই নেই। কয়েকজন বনকর্মী পরিত্যক্ত এই প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্র দেখাশোনা করেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা গেল, ‘আরে এখানে এখন দেখার মতো কিছুই নেই। ছবি তুলে আর কী হবে। সব তো ঝোপঝাড়ে ঢাকা। শুধু পিকনিকের সময় কিছু মানুষ আসেন। তবে এসে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।’

ভোটের আবহে ‘দাও ফিরে সেই কুঞ্জনগর’-এমন দাবি উঠেছে জনমানসে। প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে তিনটি কটেজও পরিত্যক্ত অবস্থায়। দরজা, জানলা ভেঙে যাচ্ছে। এই কটেজগুলিতেই কেয়ারটেকারের কাজ করতেন স্থানীয় হীরেন দাস। তাঁর কথায়, ‘মাসিক বেতন পেতাম। কত দূর দূর থেকে পর্যটকরা আসতেন। ভোটের মুহূর্তে আমাদের একটাই দাবি, কুঞ্জনগরের অতীত গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’

জল, জঙ্গল সহ ফাঁকা জায়গা। এরকম পরিকাঠামোর জন্য ১৯৯৬ সাল থেকে স্থানীয়দের উদ্যোগে কুঞ্জনগরে পিকনিক স্পট চালু হয়৷ ভিড় দেখে ২০০৬ সালে তৎকালীন বনমন্ত্রী যোগেশচন্দ্র বর্মনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে কুঞ্জনগর প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্র। সরকারি উদ্যোগে নানা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। এভাবে কুঞ্জনগরের নাম রাজ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিচিতি বাড়ে ফালাকাটার। কিন্তু তৃণমূলের সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই ধীরে ধীরে গৌরব হারায় কুঞ্জনগর। এই পর্যটনকেন্দ্রে তো কোনও দলের প্রার্থী ভোট প্রচারে আসবেন না৷ তবে কুঞ্জনগর গ্রামে কেউ এলেই সবার দাবি একটাই, অতীত গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

স্থানীয় সিপিএম নেতা শশাঙ্ক  বর্মন বলছেন, ‘বাম আমলে কুঞ্জনগর ছিল ফালাকাটার গৌরব। বহু মানুষ এখানে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন। আমরা কুঞ্জনগরকে ইস্যু করেই ভোটের প্রচার সারছি।’

তৃণমূলের আমলে কেন গৌরব হারাল কুঞ্জনগর? সূত্রের খবর, ন্যাশনাল জু অথরিটির অনুমোদন ছাড়াই এখানে পশুপাখিকে খাঁচাবন্দি রাখা হয়েছিল। তাই পরে সেসব পশুপাখিকে বেঙ্গল সাফারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা কেন সেই অনুমতি নতুন করে আদায় করতে পারলেনা না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের ফালাকাটার প্রার্থী সুভাষচন্দ্র রায়ের বক্তব্য, ‘কুঞ্জনগরের গোটা বিষয়টি বনমন্ত্রী সহ রাজ্য সরকারকে জানানো  হয়েছে। ভোটের পর অবশ্যই কুঞ্জনগরের ঐতিহ্য ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘বাম আমলে যদি সঠিকভাবে অনুমতি নেওয়া হত, আর কেন্দ্রীয় সরকার যদি বিবেচনা করে ন্যাশনাল জু অথরিটির অনুমতি দিত তাহলে তো আজকের পরিস্থিতি তৈরি হত না।’ এদিকে, বিজেপির প্রার্থী তথা বিদায়ি বিধায়ক দীপক বর্মনের বক্তব্য, ‘সিপিএম, তৃণমূল ব্যর্থ। আমরা ক্ষমতায় এলে কুঞ্জনগরের হাল ফেরাব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *