উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বেলেঘাটা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিকে শপথবাক্য পাঠ করালেন প্রোটেম স্পিকার তথা বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। একদিকে যখন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বর্তমান বিরোধী শিবিরের নেতার হাত থেকে শপথ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এক সময়ের ‘সাসপেন্ডেড’ তৃণমূল নেতার গলায় শোনা গেল আক্ষেপ এবং দলের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সুর। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্দরের চোরাস্রোত।
কুণাল ঘোষের শপথে এদিন অদ্ভুত এক সমাপতন দেখা গেল। এক সময় যাঁর হয়ে কথা বলায় দলকে কুণালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল, আজ সেই তাপস রায়ের হাতেই বিধানসভায় অভিষেক হলো তাঁর। এই ‘ভাগ্যচক্র’ নিয়ে কুণাল স্পষ্ট জানালেন, উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপস রায় বা সজল ঘোষের মতো নেতাদের দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁদের আটকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আজ তাঁরা বিরোধী শিবিরের বিধায়ক হলেও, কুণালের দাবি— তৃণমূলের অন্দরের ‘বিশেষ’ কিছু পরিস্থিতির কারণেই এই ক্ষতি হয়েছে।
দলের অনুগত সৈনিক হিসেবে লড়াই চালানোর অঙ্গীকার করলেও, তৃণমূলের বর্তমান কার্যপদ্ধতি নিয়ে সরব হয়েছেন কুণাল। তাঁর নিশানায় দলের সেই সব প্রভাবশালী মুখ, যাঁদের কারণে পুরনো ও দক্ষ কর্মীরা দল ছাড়ছেন। কুণালের ভাষায়, “একইরকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে।” তিনি মনে করেন, যোগ্য নেতাদের অবহেলা আর ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি তৃণমূলের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।
বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ। ধন্যবাদ মাননীয়া দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধন্যবাদ বেলেঘাটা কেন্দ্রের নাগরিকদের। শপথ পাঠ করালেন মাননীয় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। দীর্ঘদিনের দাদা এবং নেতা। তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক… pic.twitter.com/z6vju0TRRp
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) May 14, 2026
বেলেঘাটার (Beleghata) বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই কর্মীরা লড়াই করছেন, কিন্তু নেতৃত্বের একাংশের আচরণে সাধারণ কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে হলে এই মুহূর্তে ‘আত্মবিশ্লেষণ’ ও শুদ্ধিকরণ জরুরি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কুণালের এই বক্তব্য যেমন তাপস-সজলদের দল ছাড়ার দায় কারোর কাঁধে ঠেলে দিল, তেমনই দলের অন্দরে থাকা ‘স্বজনপোষণ’ চক্রকে এক চরম সতর্কবার্তা পাঠাল। শপথের দিনেই কুণালের এই বিদ্রোহী সুর তৃণমূলের অন্দরে নতুন ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
