উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ ১০ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে কেরলে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস (Congress) নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)। ১৪০ আসনের বিধানসভায় ১০২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও, জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী কে?’—এই প্রশ্ন। শনিবারও এই জট কাটল না। একদিকে হাইকম্যান্ডের প্রতিনিধিদের রিপোর্ট, অন্যদিকে দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে কেরলের মসনদ দখলের লড়াই এখন দিল্লির দরবারে।
নির্বাচনী ফলাফলে কংগ্রেস এককভাবে ৬৩টি আসন পেয়েছে। জোট সঙ্গী আইইউএমএল (২২), কেরল কংগ্রেস (৮) এবং আরএসপি (৩) মিলিয়ে আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২-এ। বিপুল এই জয়ের পর শরিক দলগুলির মতামত নেওয়া কংগ্রেসের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শরিকদের আস্থায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেরলের শীর্ষ নেতাদের দিল্লিতে তলব করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)। বৈঠকে রাহুল গান্ধী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক দীপা দাশমুন্সি, কে সি বেণুগোপাল, কেরল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ এবং বিদায়ী বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন ও রমেশ চেন্নিথালা। পর্যবেক্ষক মুকুল ওয়াসনিক ও অজয় মাকেন বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন, তা নিয়েই চলে দীর্ঘ কাটাছেঁড়া।
মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য লড়াই মূলত তিন নেতার মধ্যে। প্রথমত কে সি বেণুগোপাল (KC Venugopal) রাহুল গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাবশালী মুখ। অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন তাঁর পাল্লায় ভারী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভি ডি সতীশন। বিধানসভায় বামবিরোধী লড়াইয়ে দলকে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। দলের নিচুতলার কর্মী ও সমর্থকদের বড় অংশ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। এছাডড়াও রয়েছেন রমেশ চেন্নিথালা। দলের বর্ষীয়ান নেতা এবং অভিজ্ঞ মুখ হিসেবে তিনিও লড়াইয়ে অনড়।
নেতৃত্বের এই লড়াই এখন সমর্থকদের স্লোগান ও পোস্টার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। দিল্লির রাজপথে সতীশনকে ছাত্রনেতারা স্বাগত জানালেও, খাড়গের বাসভবনের সামনে বেণুগোপালের সমর্থনে পোস্টার পড়েছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই প্রবীণ নেতা কে মুরলীধরন আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাইকম্যান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।
