উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার সকাল থেকেই প্রহর গুণছিল শাসক দল (TMC)। কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta Excessive Court docket) এদিন ছিল ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের (Main academics case) চাকরি বহাল থাকবে কিনা তা নিয়ে রায়দান। সুপ্রিম রায়ে ২৬ হাজার ‘চাকরিহারা’-দের তালিকায় যদি ৩২ হাজারের নাম জুড়ত তাহলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে ঝড় উঠত রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালতের রায়ে ৩২ হাজার পরিবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচতেই আসরে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। নাম না করে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে (EX Justice Avijit Ganguli) বিঁধে তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে বিচারপতির চেয়ারে বসে বিচারব্যবস্থার সঙ্গে অন্যায় করেছেন। এই নজির আজীবন থাকবে।’
কুণাল ঘোষের (TMC Chief Kunal Ghosh) কথায়, ‘প্রাথমিকে ৩২ হাজার নিয়োগ বহাল। চাকরি খাওয়ার রাজনীতির চক্রান্ত প্রমাণিত। সেই আইনজীবী, নেতা,সংশ্লিষ্ট শকুনেরা প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে সেসব ক্ষেত্রে তদন্ত হোক, ব্যবস্থা হোক। কিন্তু তার জন্য সকলের চাকরি খেয়ে চোখের জল নিয়ে রাজনীতির কারবারীদের মানুষ চিনে নিন। বিচারপতির চেয়ারে বসে রাজনীতির ইস্যু তৈরি করে সাংসদ হতে যাওয়া ব্যক্তির ভূমিকা তদন্তের আওতায় থাকা উচিত। কারণ উনি বিচারপতির চেয়ারে বসে অন্যায়ভাবে ইস্যু তৈরি করেছেন, তারপর চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে সেই ইস্যুতেই রাজনীতি করেছেন। এটা বিচারব্যবস্থার পক্ষেও দুঃখজনক নজির হয়ে থাকল। আদালত এক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্নে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করুক। তদন্ত করাক।’ (বানান অপরিবর্তিত রেখে)
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল হয়। শুধু রায় ঘোষণাই নয় সে সময় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা গিয়েছিল প্রাক্তন বিচারপতির গলায়। এরপর সকলে চমকে দিয়ে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকে সেভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায় না তাঁকে। প্রাথমিকের রায় ঘোষণার পর তিনি ঠিক কী ভাবছেন তা জানার জন্য উদগ্রীব সকলে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এদিন হাইকোর্টের রায় শুধু তৃণমূলকে স্বস্তি দিয়েছে তা নয়, অভিজিৎকে সামনে রেখে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগও করে দিয়েছে।
