কুমারগঞ্জ: গল্প হলেও সত্যি। একই মণ্ডপে পরপর দুই দিন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বাবা ও ছেলে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কুমারগঞ্জ ব্লকের মূলগ্রাম পাথরঘাটা এলাকায়। একই বাড়িতে পরপর দুই দিন ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন হয়। প্রথম দিন বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বাবা, আর পরদিন একই মণ্ডপে বিয়ে সারেন তার ছেলে। এই বিরল ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
জানা গেছে, বছর একুশের তরুণ সুমন টুডু পেশায় দিনমজুর। তার বিয়ে ঠিক হয় বুধবার, মাহিনাগর এলাকার এক মহিলাকে নিয়ে এসে তিনি গাঁটছড়া বাঁধেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, তার বাবা ৪৫ বছরের দুলাল টুডু, তার আগের দিনই বিয়ে সেরে ফেলেন! এটি দুলাল টুডুর পঞ্চম বিয়ে। আগের চারজন স্ত্রী কেউ মারা গেছেন, কেউবা অন্যত্র চলে গেছেন। একাকীত্ব দূর করতেই তিনি তপন এলাকা থেকে এক মহিলাকে নিয়ে এসে নতুন সংসার শুরু করেন।
বাবা-ছেলের বিয়ে একই মণ্ডপে হওয়া নিয়ে পরিবারের কোনও আপত্তি ছিল না। বরং ছেলে সুমন টুডু জানিয়েছেন, তার বাবার একাকীত্ব দূর করতেই তারা সবাই তার বিয়েকে সমর্থন করেছেন। আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা উভয় বিয়ের অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থেকে আনন্দ উপভোগ করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে দুইদিন ধরেই চলেছে খাওয়া-দাওয়া, অতিথি আপ্যায়ণ। খাবারের আয়োজন থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান পরিচালনা পর্যন্ত, সবকিছুই ছিল গ্রাম্য রীতি ও নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী।
বিয়ের পর এখন একই বাড়িতে বসবাস করছেন বাবা-ছেলে ও তাদের নববধূরা। নতুন শাশুড়ি ও নতুন বউমা একসঙ্গে গৃহস্থালির কাজকর্ম সামলাচ্ছেন, যা গ্রামে বেশ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
একই বাড়িতে, একই মণ্ডপে, পরপর দু’দিন বাবা ও ছেলের বিয়ে হওয়ার ঘটনা বিরল। তাই এটি মূলগ্রাম পাথরঘাটার মানুষদের কাছে এক বিরল অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়েও পরিবারটি তাদের সিদ্ধান্তকে যেভাবে গ্রহণ করেছে, তা সমাজে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
