কুমারগঞ্জ: রবিবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ (Kumarganj) থানার রাইখন এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ১৬ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী বিশেষ সক্ষম নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকার একটি ওষুধের দোকানের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বজরং দলের কর্মীরাও থানায় বিক্ষোভ দেখান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে রাইখন বাজারের একটি ওষুধের দোকানের মালিক মোস্তাফা হোসেন সরকার ওই বিশেষ ভাবে সক্ষম নাবালিকাকে পরোটা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে নিজের দোকানে ডেকে নেন। অভিযোগ, এরপর দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়ে ভিতর থেকে আটকে রেখে নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়।
দোকানের ভেতর অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে বলে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে শাটার খোলা হলে নাবালিকাকে আতঙ্কিত অবস্থায় এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেন তাঁকে দোকানের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অভিযুক্ত দোকানদার দাবি করেন যে, নাবালিকার প্রস্রাব পরীক্ষা করানোর জন্যই তাঁকে ডেকেছিলেন। তবে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। বিকাশ রায় নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, তিনি দোকানে ঢুকে দোকানদারকে লুঙ্গি খোলা অবস্থায় এবং নাবালিকাকে ভয়ে কুঁকড়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।
এই ঘটনার পর অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে দোকানের সামনে শতাধিক মানুষ ভিড় জমান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মোস্তাফা হোসেন সরকারের ভাই কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সদস্য ও কর্মাধ্যক্ষ। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব ও টাকার জোরে অভিযুক্ত হয়তো শেষ পর্যন্ত ছাড় পেয়ে যেতে পারে। বিক্ষোভ চরমে উঠলে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ (Police) ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসার পর কুমারগঞ্জ থানার সামনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রায় ত্রিশজন বজরং দলের কর্মী থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা অভিযুক্তের ফাঁসি ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পরে সংগঠনের প্রতিনিধিরা থানার আইসি আশিস কুন্ডুর সঙ্গে দেখা করে ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বজরং দলের নেতা অমিত প্রসাদ বলেন, “বিশেষভাবে সক্ষম নাবালিকার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এর সঠিক তদন্ত ও অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।”
আক্রান্ত নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকেও কুমারগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

