নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে এই মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ হওয়ার আশা আর কেউই রাখছেন না। তবু একটি মহল বলছে, হয়তো একটা ছোট করে লিগ করার শেষ চেষ্টা চলছে। যেখানে খুব অল্প কিছু মাঠ বেছে নেওয়া হবে যাতায়াতের সময় বাঁচাতে। আর সেই তালিকায় ছিল কলকাতার দুটি মাঠ। একটা কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন ও অন্যটি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন।
লিওনেল মেসি চলে যাওয়ার পর এবার এই দুই মাঠের একটির উপরেও পড়ল প্রশ্নচিহ্ন। আদৌ যদি আইএসএল হয়, তাহলে কি আর সত্যিই সম্ভব হবে যুবভারতীতে ম্যাচ করার? কারণ মেসির আসার দিনে যে ক্ষয়ক্ষতি স্টেডিয়ামের হয়েছে তা সারিয়ে আগের অবস্থায় আনতে খুব কম করে হলেও দুই মাস লাগবে বলে জানাচ্ছেন পূর্ত দপ্তরের অফিসাররাই। সেক্ষেত্রে যদি ধরে নেওয়া হয় জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেও আইএসএল শুরু করা সম্ভব হয় তাহলেও শুরুরদিকে মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট ও ইস্টবেঙ্গল হোম ম্যাচ খেলতে পারবে না। অর্থাৎ কম সংখ্যক স্টেডিয়ামের তালিকায় ম্যাচ করতে গেলে আপাতত বাদ রাখতে হবে কলকাতাকে। স্টেডিয়ামে গিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তাতে প্রচুর সংখ্যায় বসার সিট বদলাতে হবে। এছাড়াও মাঠে প্লেয়িং এরিনা তো বটেই, ডাগআউট, টানেল থেকে গ্যালারি সহ প্রচুর পরিকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে। নিয়মিত যুবভারতীর কাজ করেন এমন একজন বলেছেন, ‘বাকেট সিট নতুনকরে বসাতে হবে। প্লেয়িং এরিনার বাইরের কৃত্রিম ঘাসের অংশগুলো অনেক জায়গাতেই নেই। মাঠের ঘাসেরও কিছু কিছু জায়গা উপড়ে ফেলা হয়েছে, গোলপোস্ট জায়গায় নেই, নেট কেটে ফেলা হয়েছে এবং টানেলের ফাইবার গ্লাসের আচ্ছাদন পুরোপুরি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তাতে অন্তত ২ মাস তো লাগবেই সারাতে।’ এমনকি মেটাল ডিটেক্টরও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় এখন পড়ে রয়েছে বিভিন্ন গেটে।
গত ১৩ ডিসেম্বর, মেসির সফর শুরু হয় কলকাতা দিয়ে। তিনি সেদিন যুবভারতীতে ছিলেন মাত্র ২১ মিনিট। ভিভিআইপি, রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের লোকজনে ভর্তি মাঠে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণেই অন্তত সময়ের মিনিট ৪০ আগেই তিনি মাঠ ছাড়েন। তাঁকে একেবারেই দেখতে না পেয়ে এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। শুরু হয় চেয়ার এবং জলের বোতল ছোড়া। গেট ভেঙে মােঠ ঢুকে পড়ে বিশাল সংখ্যক মানুষ। তাঁদের তাণ্ডবেই এরপর ক্ষয়ক্ষতি হয় মাঠের অন্দরেও। স্টেডিয়াম সিইও দেবকুমার নন্দনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তদন্তের জন্য। ফলে কাজ শুরু হওয়া নিয়েও রয়েছে খানিকটা ধন্দ। তবে এরইমধ্যে স্বস্তির বিষয় যে এবারে আইএসএল সময়ে শুরু না হওয়া, সেকথাও বলছেন ক্রীড়া দপ্তর ও স্টেডিয়াম কর্মীরা। ক্লাবকর্তারাও বলছেন, ‘ভাগ্যিস আইএসএল এখনও শুরু হয়নি। নাহলে এখন তো আমরা অথই জলে পড়তাম। নতুনকরে খেলার জায়গা খুঁজতে হত।’
প্রসঙ্গত, এই স্টেডিয়াম ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সময়ে ১২১ কোটি টাকা খরচ করে নতুনকরে বারমুডা ঘাস বসানো ছাড়াও পরিকাঠামোয় অত্যাধুনিকতা আনা হয়। যার অনেককিছুই নষ্ট হয়ে গেল এই মেসি-সফরের বিশৃঙ্খলার ধাক্কায়।
