Harsh Vardhan Shringla | ‘বেসরকারীকরণ নয়…’, মোদি সরকারের ‘শান্তি’ বিলের সমর্থনে রাজ্যসভায় সরব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

Harsh Vardhan Shringla | ‘বেসরকারীকরণ নয়…’, মোদি সরকারের ‘শান্তি’ বিলের সমর্থনে রাজ্যসভায় সরব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গত ১৫ ডিসেম্বর লোকসভায় মোদী সরকার পেশ করেছে ‘সাসটেইনেবল হারনেসিং অব অ্যাটোমিক এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া’ ওরফে ‘শান্তি’ (SHANTI) বিল। এই বিল পেশের ফলে দেশের পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে। বৃহস্পতিবার এই বিল নিয়ে সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দার্জিলিং থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা (Harsh Vardhan Shringla) বলেন, ‘ভারত তার পারমাণবিক শক্তি যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং এই বিলটি ১৯৬২ সালের পারমাণবিক শক্তি আইনকে আধুনিকীকরণ করে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জন নিরাপত্তাকে দৃঢ়ভাবে সুরক্ষিত রেখে একটি বিনিয়োগ-প্রস্তুত কাঠামো তৈরি করতে চলেছে। এই বিল আগামী দিনে বেসামরিক পারমাণবিক ক্ষেত্রকে নতুন রূপ দেবে।’

২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের অর্জিত অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে শ্রিংলা বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫০০ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে, যার ৫০ শতাংশেরও বেশি এসেছে জীবাশ্ম-বহির্ভূত উৎস থেকে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৪ সালের ২.৮ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১০০ গিগাওয়াটের বেশি হয়েছে এবং ভারত তার ২০৩০ সালের ৫০ শতাংশ জীবাশ্ম-বহির্ভূত ক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই অর্জন করেছে। শ্রিংলার যুক্তি, ‘সৌর ও বায়ুশক্তি অপরিহার্য হলেও, এগুলো অনিয়মিত এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজন, শিল্প, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টারের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে হলে পরিচ্ছন্ন, নির্ভরযোগ্য বেসলোড বিদ্যুতের প্রয়োজন।’ ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে অনুমান করে শ্রিংলা বলেন, ‘দেশ যখন পুরোনো কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন টেকসই উন্নয়ন, এবং বিদ্যুত সরবরাহের নিরাপত্তার জন্য পারমাণবিক শক্তি অপরিহার্য।’

শ্রিংলা বলেন, ‘শান্তি বিলটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিয়ন্ত্রিত বেসরকারি, বিদেশি এবং যৌথ উদ্যোগের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবে, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনার মতো কৌশলগত কাজগুলো ভারত সরকারের হাতেই থাকবে।’ তাঁর কথায় ‘এটি বেসরকারীকরণ নয়, বরং জবাবদিহিতা নির্ভর অংশীদারিত্ব।’

সুযোগের বিশালতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮.৮ গিগাওয়াট এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে হলে ১৯.২৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি (২১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি) বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।’ তিনি আরও জানান, বিলটি লাইসেন্সিং, নিরাপত্তা সংক্রান্ত মাপকাঠিগুলি অনুমোদন, দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য একটি অভিন্ন জাতীয় আইনি কাঠামো তৈরির কথা বলেছে যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর মতো আইনের সঙ্গে সমন্বিত।’  নরেন্দ্র মোদিকে উদ্ধৃত করে শ্রিংলা বলেন, ‘২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে, দেশকে বিভিন্ন খাতে নতুন ধারণা এবং নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *