উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের ছত্রভঙ্গ দশা যেন আর কাটছে না! একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধি দল ছাড়ছেন। কেউ যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে, কেউ বা সরাসরি ক্ষোভ উগরে অন্য পথ বাছছেন। এই আবহে বৃহস্পতিবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন টলিউড তারকা কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। আর ইস্তফাপত্র দিয়েই তিনি দেখা করেছেন বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। তাতেই জল্পনা তুঙ্গে— তবে কি এবার পদ্ম শিবিরের হয়ে ফের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন কোয়েল?।
নির্বাচনে ভরাডুবির পরপরই তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সংসর্গ ত্যাগ করেছিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। একই পথে হাঁটেন আরও দুই সাংসদ— সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিকবরাইক। এর সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে তিনজনই পদ্ম শিবিরে যোগ দেন এবং রাতারাতি রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে যান।
সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে এই তিন আসনে তৃণমূলের প্রার্থী দেওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিকবরাইক। শুক্রবারই বিধানসভার স্পিকারের হাত থেকে তাঁরা শংসাপত্রও গ্রহণ করেছেন। এবার কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন— কোয়েলও কি তবে একই ফর্মুলায় বিজেপির সাংসদ হতে চলেছেন?
এদিন এই দলবদল ও টিকিটের জল্পনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) কোয়েলকে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর চেনা ভঙ্গিতেই ইঙ্গিতপূর্ণ ও কিছুটা উদাসীন জবাব দেন। তিনি বলেন, “দেখুন, এ বিষয়ে আমাদের নির্দিষ্ট সংসদীয় দল আছে, সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। তবে আমাদের কাছে কোয়েল-দোয়েল-পায়েল কেউ কোনও বিষয় না। বিষয়টা হল বিজেপি, বিষয়টা হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)।”
শমীক আরও যোগ করেন, সুখেন্দুশেখর রায়রা স্বেচ্ছায় দল ছেড়ে এসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছিলেন বলেই দল তাঁদের রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। তবে টলিউড তারকাকে দলে নেওয়া বা টিকিট দেওয়ার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে রাজ্য সভাপতি মনে করিয়ে দেন, ‘‘সামগ্রিকভাবে আমি দলের তরফে বলছি, বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হবে না। সংবাদমাধ্যমে এটা নিয়ে চর্চা চলছে, চলুক না।” রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের পর কোয়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

