Kiren Rijiju | অরুণাচল নিয়ে ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ, সেনার বার্তার পর কংগ্রেসকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি রিজিজুর

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) চিনের দখলদারি সংক্রান্ত ভুয়ো ও কারসাজি করা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেস (Congress) দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)। ভারতীয় সেনাবাহিনী এই সমস্ত বিভ্রান্তিকর ভিডিওর আসল সত্যতা জনসমক্ষে এনে তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়ার পরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিহারের কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখপাত্র রীতু চৌধুরীর শেয়ার করা একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে চিনা যানবাহন ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে, আর অন্য একটি পোস্টে বলা হয়েছিল চিন অরুণাচলের বেশ কিছু এলাকা দখল করে নিয়েছে এবং সেনাকে প্রয়োজনীয় রসদ বা সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না।

প্রথম ভিডিওটির বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সেটি সিকিমের নাথু লা পাসের দৃশ্য—যা একটি অনুমোদিত ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পয়েন্ট। এই প্রসঙ্গে সেনার বক্তব্য, “একটি অনুমোদিত সীমান্ত বাণিজ্য পথে বাণিজ্যিক যানবাহনের চলাচলকে চিনা সামরিক অনুপ্রবেশের প্রমাণ হিসেবে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।” অন্যদিকে, দ্বিতীয় ভুয়ো ভিডিওটিতে স্পিয়ার কর্পসের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়াকে বলতে শোনা গিয়েছিল যে চিন অরুণাচলের কিছু অংশ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই ভিডিওটিকে একটি ডিপফেক বলে উড়িয়ে দিয়ে সেনার পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে, “মূল ফুটেজটি ছিল ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায় আয়োজিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের, যা নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টার বিষয়ে ছিল। অরুণাচল প্রদেশের ওপর চিনের নিয়ন্ত্রণ কিংবা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।”

অরুণাচলেরই সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই ঘটনার পর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁর সাফ কথা, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর জন্য কংগ্রেস দলের উচিত জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। এটি একটি বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজ এবং আমাদের শত্রুদের জঘন্য কর্মকাণ্ডের সমতুল্য। কংগ্রেস দল ভারতের শত্রুদের হয়ে একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় প্রচারণা চালাচ্ছে।”

যদিও এই তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হঠেননি এনএসইউআই (NSUI) প্রধান বিনোদ জাখর। উলটে তিনি দাবি করেছেন যে ভিডিও কারসাজি করা হলেও তাতে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সঠিক। তাঁর মন্তব্য, “ভিডিওটি কারসাজি করে তৈরি করা হয়ে থাকলেও, তাতে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে ভুল কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণ সঠিক। দিল্লিতে যুবকদের প্রতিবাদ থামাতে বিজেপি বাহিনী মোতায়েন করছে। অথচ অরুণাচলে, যেখানে চিন আমাদের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করছে, সেখানে তারা বাহিনী মোতায়েন করছে না কেন?”

এই পুরো বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপিও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীকে হেয় প্রতিপন্ন করার গুরুতর অভিযোগ এনেছে। বিজেপি মুখপাত্র সি আর কেশবন সামাজিক মাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানিয়ে পোস্ট করে লিখেছেন, “আমাদের বীর সশস্ত্র বাহিনীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কংগ্রেস দলের নেতাদের একটি ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া আবারও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, দলটির মধ্যে সেনাবাহিনী-বিরোধী এক জঘন্য মানসিকতা রয়েছে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং তাদের মর্যাদাকে খাটো করার ক্ষেত্রে কংগ্রেস বারবার একই ধরনের অপরাধ করে এসেছে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *