উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-তে নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত টহলদারির নিয়ম চিন অমান্য করলেই সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুক্রবার দ্বিসাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে চিনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নতির মূল শর্তই হল সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
সম্প্রতি ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর অরুণাচল প্রদেশের একাধিক স্থানে মুখোমুখি সংঘাতের কথা তুলে ধরেন। কাপুরের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রণধীর জয়সওয়াল জানান, সীমান্ত সংক্রান্ত বকেয়া সমস্যা সমাধান করতে এবং কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে উভয় দেশই বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক মাধ্যমগুলি ব্যবহার করে চলেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং এলএসি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরির উদ্দেশ্যে উপযুক্ত স্তরে আলোচনা চালিয়ে যেতে দু’পক্ষই সম্মত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে গত বছরগুলিতে পর্যায়ক্রমে দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পূর্ব লাদাখের ডেমচক ও দেপসাং থেকে সেনা পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শীর্ষ স্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অনুভূতি ও স্বার্থ’-এর ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, সীমান্ত সুরক্ষায় ভারত আইটিবিপি-তে ‘ড্রোন প্লাটুন’ গঠন সহ জওয়ানদের বিশেষ ‘স্ট্রাইক’ প্রশিক্ষণ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

