- লিলি চক্রবর্তী
শোলে সিনেমার সেই দৃশ্যটি মনে আছে আপনাদের? বন্ধু জয়ের (অমিতাভ বচ্চন) মৃত্যুতে হুংকার ছেড়েছিলেন, ‘… এক এক কো চুন চুন কে মারুঙ্গা। গব্বর সিং আ রহা হুঁ ম্যায়।’ এভাবে বোধহয় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেননি আর কেউ। ধর্মেন্দ্রর (Dharmendra) কেরিয়ারের অন্যতম মাইলফলক সিনেমাটি। ‘বীরু’ হয়েছিলেন তিনি। জয়ের সঙ্গে তঁার অটুট বন্ধুত্ব, বসন্তীর সঙ্গে প্রেম, গব্বরের সঙ্গে লড়াই- কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে, এমন চরিত্র উপহার দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র।
আমি ওঁর সঙ্গে চুপকে চুপকে ছবিতে কাজ করেছিলাম। বড় রোল ছিল না আমার। দেখে অবাক হয়েছিলাম, এত বড় মাপের অভিনেতা সেটের সকলের সঙ্গে কত সহজে মিশে যেতেন। কথা বলতেন বন্ধুর মতো। বেশ হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। অ্যাকশন স্টার হিসেবে বিপুল খ্যাতি পেয়েছিলেন বটে, কিন্তু আমার তাঁর সফট রোল, বিশেষ করে হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে অভিনয় খুব ভালো লেগেছিল। সম্প্রতি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন, তারপর আবার ভালো হয়ে বাড়িও ফিরেছিলেন শুনেছি। আবার কী হল, কে জানে। বয়স হয়েছিল। একদিন আমাদের সবাইকেই যেতে হবে। কিন্তু এই চলে যাওয়া বড্ড বেদনাদায়ক। নতুন ছবি আসছে শুনলাম। মুক্তি পাওয়া দেখে যেতে পারলেন না, এটাই দুঃখের। এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ সফর শেষ হল।
১৯৩৫ সালের ৪ ডিসেম্বর লুধিয়ানার নসরালি গ্রামে স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে জন্ম ধর্মেন্দ্র সিং দেওলের। কিশোর বয়স থেকেই আখড়ায় শরীরচর্চা করতেন। পালোয়ান হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু ১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ার পত্রিকায় নিউ ট্যালেন্ট হান্ট-এর বিজ্ঞাপন তাঁর জীবন বদলে দেয়। তার আগে তিনি রেলে ক্লার্ক পদে চাকরিও করেছেন। চাকরি করতে করতেই বিয়ে হল প্রকাশ কাউরের সঙ্গে। পরের বছর জ্যেষ্ঠ পুত্র সানি দেওলের জন্ম।
কিন্তু চাকরির বাঁধাধরা রুটিন, সেই জীবনযাপন তাঁর পোষাল না। পুষিয়ে গেলে হয়তো বলিউড হি-ম্যানকে পেত না। ট্যালেন্ট হান্টের বিজ্ঞাপন অভিনেতা হওয়ার স্পর্ধা জোগাল তঁাকে। সেই স্বপ্নপূরণ করতে চাকরি ছেড়ে পকেটে সামান্য কিছু টাকা আর ইচ্ছেশক্তির জোরে পা রাখলেন মায়ানগরীতে। ১৯৬০ সালে মুক্তি পেল তাঁর প্রথম ছবি ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’। যদিও দর্শক মহলের খুব বেশি সাড়া মিলল না। এরপর ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শোলা অউর শবনম’ ধর্মেন্দ্রকে পরিচিত দিল। ১৯৬৩ সালে ‘বন্দিনী’-কে তাঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। ১৯৬৬ সালের ‘ফুল অউর পাত্থর’ তাঁকে স্টারডমের শিখরে পৌঁছে দেয়।
‘অনুপমা’, ‘সত্যকাম’, ‘হকিকত’- প্রতিটি আলাদা স্বাদের সিনেমা। সত্তরের দশক থেকে বলিউডে অ্যাকশনের জমানা শুরু হল। নিজেকে বদলালেন ধর্মেন্দ্র। ১৯৭১ সালে ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ ছবিতে তিনি ডাকাতের চরিত্র করলেন। সেই শুরু তাঁর ‘হি-ম্যান’ হয়ে ওঠার সফর। বড় পর্দায় এসেছে ‘জুগনু’, ‘চরস’, ‘আজাদ’, ‘ইয়াদোঁ কি বরাত’, ‘শালিমার’ এবং আরও আরও অনেক। ১৯৮০ সালে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা।
ডিসেম্বর মাসে ৯০ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল ধর্মেন্দ্রর। তার আগেই সফর শেষ হল। দীর্ঘ কর্মজীবন। অগণিত সিনেমা। মনে দাগ কাটা অভিনয়। বলিউডের এক যুগের অবসান হল বছরের শেষলগ্নে।
