হিলি: জীবিত ও বৈধ ভোটারদের ‘মৃত’ এবং ‘বাংলাদেশি’ সাজিয়ে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের অভিযোগ ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি বিডিও অফিস (Kind 7 Controversy)। বিজেপির হিলি মণ্ডল সভাপতি বিধান রায়ের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষজন ও তৃণমূল নেতৃত্ব। হয়রানির শিকার হওয়া ভোটাররা অভিযুক্ত বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন (Voter Listing Dispute)।
বালুরঘাট মহকুমা শাসকের করণে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় হিলি ব্লকের ৪৪ জন ভোটারের বিরুদ্ধে ‘ফর্ম সেভেন’ (নাম বাতিলের আবেদন) জমা করেছিলেন বিজেপি নেতা বিধান রায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বুধবার দুপুরে ৪৪ জন ভোটারকে হিলি বিডিও অফিসে শুনানির জন্য তলব করা হয়।
শুনানিতে হাজির হয়ে ভোটাররা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আব্দুল করিম মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি বলেন, “বিধান রায় আমাকে মৃত ও বাংলাদেশি বলে ফর্ম সেভেন জমা করেছেন। আমার শরিক মিলিয়ে মোট ৩৯ জনের নামে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে।” ফারুক আলী সরকার নামে আরেক ভোটার বলেন, “আমি জীবিত এবং ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। অথচ অভিযোগকারী নিজে শুনানিতে হাজির হননি।”
ভুক্তভোগী ভোটারদের পাশে দাঁড়াতে বিডিও অফিসে পৌঁছান তৃণমূল নেত্রী অর্পিতা ঘোষ। তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মানুষকে হয়রানি করাই বিজেপির কাজ। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। দলগতভাবে আমরা এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।” অন্যদিকে, অভিযোগকারী বিধান রায় বলেন, “দলীয় নির্দেশেই আমি ফর্ম সেভেন জমা দিয়েছি। জেলা সভাপতি এ নিয়ে জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। কে মৃত আর কে বাংলাদেশি তা নথিতেই প্রমাণ হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নথি যাচাই করে আপাতত ভোটারদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে বৈধ ভোটারদের এভাবে হয়রান করার ঘটনায় এলাকাটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
