উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কথায় কথায় পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দেওয়া উত্তর কোরিয়ার অন্যতম অভ্যেস। তবে এবার কেবল মৌখিক হুমকি নয়, নিজেদের পরমাণু নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও আমূল পরিবর্তন নিয়ে এলেন প্রশাসক কিম জং উন। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পিয়ংইয়ং সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো বিদেশি শক্তির হামলায় কিম জং উনের মৃত্যু হলে বা তাঁকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হলে, উত্তর কোরিয়া আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। সেই মুহূর্তে কোনো আলাপ-আলোচনা বা অনুমতির তোয়াক্কা না করেই ‘স্বয়ংক্রিয়’ পদ্ধতিতে পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালানো হবে।
গত ২২ মার্চ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ১৫তম সুপ্রিম পিপল্স অ্যাসেম্বলির অধিবেশনে এই নজিরবিহীন সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধিত আইনের ধারা অনুযায়ী, দেশের সম্পূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের সর্বাধিনায়ক হিসেবে থাকছেন কিম জং উন-ই। তবে নতুন নীতির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনোভাবে কিমের ওপর হামলা হয় কিংবা দেশের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে, তবে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরমাণু হামলা শুরু করবে। অর্থাৎ, কিমের অনুপস্থিতিতেও পারমাণবিক বোতাম সচল রাখার আইনি পথ তৈরি করে রাখা হলো।
হঠাৎ কেন এই মরিয়া সিদ্ধান্ত? আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পিয়ংইয়ংকে বিচলিত করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত এবং ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ অভিযানের ঘটনা কিম জং উনকে বাড়তি সতর্ক হতে বাধ্য করেছে। কিম বরাবরই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত খুঁতখুঁতে। আকাশপথে ভ্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে তিনি নিজস্ব সাঁজোয়া ট্রেনে চলাফেরা করেন, এমনকি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিদেশ সফরেও নিজের পোর্টেবল টয়লেট বহন করেন। ইরানের ঘটনার পর কিম হয়তো আশঙ্কা করছেন যে, তাঁর ওপরেও একই ধরনের হামলা হতে পারে।
এই নীতিবদলের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া কার্যত গোটা বিশ্বকে একটি কঠোর ‘ওয়ার্নিং’ দিয়ে রাখল। বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং এই বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চাইছে যে, শাসককে সরিয়ে দিলেই উত্তর কোরিয়াকে হারানো সম্ভব নয়; বরং কিমের মৃত্যু উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ভাণ্ডারকে আরও বিধ্বংসী ও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলবে। আমেরিকার ক্রমাগত হুঁশিয়ারি আর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার মুখে দাঁড়িয়ে কিম জং উনের এই আইনি ঢাল তৈরি করা নিঃসন্দেহে বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপের সৃষ্টি করল। এখন থেকে কিমের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে শত্রুপক্ষকে শতবার ভাবতে হবে, কারণ এর পরিণাম হতে পারে একটি ভয়াবহ পারমাণবিক মহাপ্রলয়।
