গৌড়বঙ্গ ব্যুরো: আগামী ৭ ও ৮ জানুয়ারি গৌড়বঙ্গ সফরে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রথম দিন দুই দিনাজপুরে রোড শো করার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। দ্বিতীয় দিন মালদায় বড় সভা করবেন অভিষেক।
দিন তিনেক আগে যখন আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) সভা করতে এসেছিলেন, তখন অভিষেকের নজর ছিল চা শ্রমিকদের ওপর। আর এবারের সফরের ‘টার্গেট’ পরিযায়ী শ্রমিক ও সেইসঙ্গে এসআইআর (SIR)-এর ফলে যাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তাঁরা। ৮ তারিখ পুরাতন মালদার (Malda) নারায়ণপুর বাইপাসের ধারে জলঙ্গাতে যে জনসভা করবেন, সেখানে ৫ হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে জড়ো করতে চাইছে তৃণমূল। মালদার জনসভায় র্যাম্পে তুলে নিয়ে আসা হতে পারে এমন কিছু পরিযায়ী শ্রমিককে, যাঁরা বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুরে গিয়ে তিনি দেখা করবেন নির্যাতিত পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে।
পরিযায়ীদের দুর্দশার কথা বলবেন অভিষেক। সেজন্য এলাহি আয়োজন। ব্যাপক খরচ। ৭ তারিখ বাগডোগরায় আসবেন চার্টার্ড বিমানে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে যেতে পারেন বালুরঘাটে। সেখানকার কর্মসূচি সেরে যাবেন ইটাহারে রোড শো করতে। হেলিকপ্টারেও যেতে পারেন। হেলিপ্যাড বানানো হয়েছে। অথবা সড়কপথে। তাতেও খরচ কম নয়। মালদায় সভার জন্য বানানো হচ্ছে প্রায় ৩০ ফুট বাই ৩৫ ফুটের র্যাম্প। সেই মঞ্চ বানানোর খরচই তো দুই লক্ষ টাকার বেশি। বাকি জ্বালানি বা অন্যান্য আয়োজনের যা খরচ, তা কি পরিযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণের কাজে লাগানো যেত না?
পুরাতন মালদার যেখানে অভিষেকের সভা হচ্ছে, সেই জলঙ্গায় একাধিক পরিবার রয়েছে, যারা ধূপকাঠি বানিয়ে বিক্রি করে। পুরোটাই অসংগঠিত ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ। তা বানানো, বিপণন ও বিক্রয়ের কোনও পরিকাঠামোই নেই এলাকায়। যে পুরাতন মালদায় অভিষেকের সভা হচ্ছে, সেখানে আমসত্ত্ব বানিয়ে দিন গুজরান করে বহু পরিবার। বাজারে সেই আমসত্ত্বের কদর থাকলেও তা বিপণন বা বিক্রয়ের জন্য কোনও সরকারি উদ্যোগ নেই। এলাকায় যদি পরিকাঠামো গড়ে ওঠে, যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ মেলে, তাহলে তো বাইরে কাজ করতে যাওয়ার আর দরকার হয় না। পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে জনসভা করারও প্রয়োজন হয় না।
তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব অবশ্য এসব প্রশ্নের ধারকাছ দিয়ে ঘেঁষতে রাজি নয়। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের মালদা জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস কেবল বললেন, ‘আগামী ৭ জানুয়ারি রাতেই মালদায় চলে আসবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন রাতে তিনি মালদায় থাকবেন। পরদিন পুরাতন মালদার নারায়ণপুর বাইপাসের ধারে জলঙ্গাতে একটি সভা করবেন। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রায় ৫ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনবেন।’
এত পরিযায়ী শ্রমিক জোগাড় করাও বড় কাজ। দলের মালদা জেলার মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু জানালেন, প্রতিটি ব্লকের সভাপতিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কে কোথায় দায়িত্বে থাকবেন তা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। প্রতিটি ব্লক থেকে ৩০০ জন করে পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, এর আগে নব জাগরণ কর্মসূচিতে ইটাহার থেকে ভালো সাড়া পেয়েছিলেন অভিষেক। সেজন্য ফের সেখানেই রোড শো করছেন তিনি। চৌরাস্তা মোড়ে পথসভাও হবে। ইটাহার বিধানসভার প্রতি বুথ থেকে অন্তত ৩০০ জন কর্মীকে নিয়ে আসার টার্গেট রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কর্মী-সমর্থক আসবে বলে আশাবাদী জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। সোমবার তৃণমূল যুবর তরফে ইটাহারে বাইক র্যালি করা হয়। রায়গঞ্জে প্রস্তুতি সভা হয় উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে।
দক্ষিণ দিনাজপুরে এসে পতিরামের লক্ষ্মীপুরে পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে যাবেন অভিষেক। ‘বাংলাদেশি’ তকমা পাওয়া অসিত সাত মাস মহারাষ্ট্রের জেলে ছিলেন। সেখানেই ডেকে নেওয়া হতে পারে এসআইআর আতঙ্কে মৃত কুমারগঞ্জের ওসমান মণ্ডলের পরিবারকে। বালুরঘাট বিমানবন্দরে হেলিকপ্টারে আসবেন ধরে নিয়ে সেখানে তাঁবু খাটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিষেকের এই সভাকে ঘিরে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার জন্য এদিন দুপুরে প্রথমে বালুরঘাট শহরের একটি সভাগৃহে জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের মিটিং হয়। এরপর পুলিশ আধিকারিকরা ও তৃণমূল নেতৃত্ব, বালুরঘাট বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন।
