সামসী: মহানন্দা নদীভাঙন রুখতে বোল্ডার দিয়ে নদীর পাড় বাঁধানোর দাবিতে এবার গণআন্দোলনের পথে পুরাতন খানপুরের (Khanpur) বাসিন্দারা। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কয়েকশো গ্রামবাসীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সোমবার মালদায় অবস্থিত মহানন্দা এমব্যাংকমেন্টের নির্বাহী বাস্তুকার দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিলেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীর ভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা হয়নি।এই আবহে বর্ষায় নদীর জল বাড়তেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
স্থানীয়দের দেওয়া আবেদনপত্র অনুযায়ী, চাঁচল-১ ব্লকের পুরাতন খানপুর গ্রামের খানপুর প্রাথমিক স্কুল থেকে পুরাতন খানপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার নদীপাড় বর্তমানে ভাঙনের কবলে। ইতিমধ্যেই নদীর পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। ভাঙন আরও বাড়লে এলাকার জনবসতি-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীদের দাবি, খানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নদীর ভাঙনের মুখে রয়েছে। বর্ষার জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। ফলে কোনও বড় দুর্ঘটনা বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আগেই নদীপাড় সংরক্ষণের কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
এদিন মহানন্দা (Mahananda) এমব্যাংকমেন্টের নির্বাহী বাস্তুকারের কাছে দেওয়া আবেদনে বাসিন্দারা দাবি করেছেন, নদীর ভাঙনপ্রবণ অংশ পরিদর্শন করে বোল্ডার পাথর দিয়ে নদীর পাড় সংরক্ষণের কাজ দ্রুত শুরু করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে ভাঙন (River Erosion) ঠেকানো সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পিতভাবে নদীপাড় বাঁধানো প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে আবেদনকারী এমাদুর রহমান বলেন, “প্রতি বছর নদী একটু একটু করে গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। বহু জমি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এখন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বসতবাড়ি নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। তাই কয়েকশো বাসিন্দার স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মহানন্দা এমব্যাংকমেন্টের নির্বাহী বাস্তুকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।”
এক স্থানীয় বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত সদস্য রাজিব আলির কথায়, “বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষের রাতের ঘুম উড়ে যায়। কখন কোথায় পাড় ভেঙে যাবে, তা বোঝা যায় না। দ্রুত বোল্ডার দিয়ে বাঁধ না দিলে আগামী দিনে বড় বিপদ হতে পারে।”
আর এক বাসিন্দা এমদাদুল হক বলেন, “এটি শুধু কয়েকটি পরিবারের সমস্যা নয়। নদী ভাঙলে গোটা এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। প্রশাসনকে অনুরোধ, বিষয়টিকে জরুরি ভিত্তিতে দেখে কাজ শুরু করা হোক।”
কয়েকশো মানুষের গণস্বাক্ষর-সহ এই আবেদনকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন পত্রটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে মহানন্দা এমব্যাংকমেন্টের নির্বাহী বাস্তুকার দপ্তরের তরফে। এখন প্রশাসন নদীভাঙন প্রতিরোধে কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে পুরাতন খানপুরের মানুষ।

