কেরলে পালাবদলের পর এবার দুর্নীতির অভিযোগে বিপাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও তাঁর পরিবার। কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল)-কে ঘিরে তথাকথিত আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষ কাণ্ডে বিজয়নের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরর নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট। আদালত সাফ বলছে, আইটি পরামর্শ সংক্রান্ত পরিষেবার নামে বিজয়নের কন্যা বীণার বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানি ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-কে ২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা দিয়েছিল তাতে অস্বচ্ছতা রয়েছে।
সিএমআরএল মামলায় প্রবীণ সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে টি বীণা এবং জামাই তথা সিপিআই(এম) নেতা পি এ মহম্মদ রিয়াসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে আবেদন করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিজয়ন ও তাঁর মেয়ের দিকে নজর ছিল ইডির। একাধিকবার তাঁর বিভিন্ন ঠিকানায় হানাও দেন ইডি আধিকারিকরা। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ইডি আধিকারিকদের বক্তব্য ছিল, বিজয়নের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা উচিত কেরলম পুলিশের। কিন্তু কেরল সরকার সরাসরি এফআইআর দায়ের না করে হাই কোর্টে আবেদন করে প্রাথমিক তদন্ত সেরে নেওয়ার জন্য।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার কেরল হাই কোর্ট জানাল, কোনও প্রাথমিক তদন্তের দরকার নেই। বিজয়নের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়ের করা হোক। শুক্রবার কেরল হাই কোর্টের বিচারপতি এ বদরুদ্দিন বলে দিলেন, ইডির রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত না করে সরাসরি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং অন্যান্য ধারায় এফআইআর করতে হবে। আদালত বলছে, বিজয়ন মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কন্যা বীণার বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানি ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-কে ২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা দিয়েছিল কেরল সরকার। সেই লেনদেনে বেনিয়ম রয়েছে যে বলে যে তথ্যপ্রমাণ ইডি পেশ করেছে সেটা এফআইআর দায়েরের পক্ষে যথেষ্ট।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে বিজয়নের বিরুদ্ধে বহু আগে থেকেই ইডি বিজয়নের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। একাধিকবার তাঁর বাড়িতে তল্লাশিও চালানো হয়েছে। যদিও কংগ্রেস সরকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরে খানিকটা হলেও গড়িমসি করছিল। হাই কোর্টের নির্দেশে সেই সুযোগ আর রইল না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
