উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ এক দশক পর দক্ষিণ ভারতের লাল দুর্গে ফুটল কংগ্রেসের ‘হাত’। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সোমবার শপথ (Kerala CM Oath) নিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা ছ’বারের বিধায়ক ভি ডি সতীশন (V D Satheesan)। তিরুবনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে সতীশন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার ২০ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র ক্ষমতার পটপরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং এক বিরল ও নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী হয়ে রইল।
সতীশন সরকারের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট বসেছিল। উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, ওয়েনাড়ের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরা এবং কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম-এর প্রবীণ নেতা পিনারাই বিজয়নের উপস্থিতি। রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে নবগঠিত সরকার কেরলের বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তিনিও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। নতুন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বিজয়ন ও বিজেপি সভাপতি চন্দ্রশেখরের এই উপস্থিতি কেরলের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
সদ্য সমাপ্ত কেরল বিধানসভা নির্বাচনে একপ্রকার ঝড় তুলেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ইউডিএফ (UDF)। রাজ্যের ১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টি আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়ে মসনদ দখল করেছে তারা। অন্যদিকে, বিগত দুই দফায় ক্ষমতায় থাকা সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বাম জোট এলডিএফ (LDF) মাত্র ৩৫টি আসনে গুটিয়ে গেছে। ভোটগণনার ১০ দিন পর গত বৃহস্পতিবার কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সতীশনের নাম চূড়ান্ত করে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। গত পাঁচ বছর ধরে কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে দলকে যেভাবে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, তারই পুরস্কার পেলেন সতীশন।
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরে নাটকীয়তা কম ছিল না। সতীশন ছাড়াও এই পদের দৌ়ড়ে ছিলেন দলের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চেন্নিতালা। দিল্লির হাত শিবিরের একটি সূত্র মারফত জানা যায়, কংগ্রেস পরিষদীয় দল প্রথমে বেণুগোপালের নাম প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু কেরলের বিধায়কদের একটি বড় অংশ সতীশনের পক্ষে অনড় থাকেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ২০২১ সালের শোচনীয় পরাজয়ের পর মাটি কামড়ে পড়ে থেকে দলকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়েছেন সতীশনই। শেষ পর্যন্ত বিধায়কদের সেই জেদের কাছেই মাথা নোয়াতে হয় দিল্লিকে।
