ময়নাগুড়ি: প্রার্থী বদলের যাবতীয় জল্পনা ও দলীয় কোন্দলকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে মঙ্গলবার ময়নাগুড়িতে নির্বাচনি প্রচার শুরু করলেন বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় (Kaushik Roy Marketing campaign)। এদিন তিনি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ময়নাগুড়ির (Mainaguri) বিখ্যাত জটিলেশ্বর এবং জল্পেশ মন্দিরে পুজো দেন। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই ময়নাগুড়িতে বিজেপির একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এমনকি কৌশিক রায়ের প্রার্থীপদ বাতিলের দাবিতে বিজেপি কার্যালয়ে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন দলেরই কিছু নেতা-কর্মী। সোমবারের নির্ধারিত পুজো ও প্রচার কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কিন্তু মঙ্গলবার সমস্ত বিতর্কে জল ঢেলে প্রচারে অংশ নেন কৌশিক।
এদিনের প্রচার কর্মসূচিকে ঘিরে ময়নাগুড়িতে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এক অভাবনীয় উন্মাদনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। আদিবাসী নৃত্য, ঢাক, ঢোল ও কীর্তনের দল নিয়ে এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। কৌশিক রায় মন্দির থেকে বেরিয়ে প্রচার শুরু করতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন উৎসাহী কর্মীরা। পদযাত্রা চলাকালীন রাস্তার দু’পাশে সাধারণ মানুষের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিক্ষোভকারীদের অনুপস্থিতি। গত কয়েকদিন ধরে যাঁরা প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব হয়েছিলেন এবং কৌশিক রায়ের হয়ে প্রচার করবেন না বলে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, এদিনের কর্মসূচিতে তাঁদের দেখা মেলেনি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৌশিক রায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, আসন্ন নির্বাচনে (West Bengal Election 2026) ময়নাগুড়ির মানুষ তাঁর পাশেই থাকবেন। নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কৌশিক বলেন, “বাংলার মাটিতে ধর্মের সৃষ্টি হবে এবং অধর্মের বিনাশ হবে।” দলের অভ্যন্তরে থাকা ক্ষোভ প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তাঁর এদিনের বিপুল জমায়েত বিরোধী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে একটি বড় বার্তা বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। প্রার্থী বদলের জল্পনা থেমে যাওয়ায় এখন ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে পুরোদমে ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গেল।
