উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্যে আইএএস (IAS) এবং আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের গণ-অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের এই ‘তৎপরতা’ নিয়ে একের পর এক তীক্ষ্ণ সওয়াল করেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই রাতারাতি দক্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দিচ্ছে কমিশন। তিনি বলেন, “মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁকে কোনো নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েত দফতরের সচিবকেও সরানো হয়েছে। নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী?” এছাড়া জাভেদ শামিম এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের মতো দক্ষ অফিসারদের অপসারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উল্লেখ্য, সুপ্রতিম সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, মোট ৬৩ জন পুলিশ অফিসার এবং ১৬ জন আইএএস অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ১৩ জন পুলিশ সুপারও রয়েছেন। তাঁর সওয়াল, “অধিকাংশ অফিসারকেই কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। যদি রাজ্যে কোনো বড় বিপর্যয় ঘটে, তবে এই শূন্যতা কে সামলাবে?”
কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণবাবু আদালতকে জানান, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে শুধু সরানোই হয়নি, তাঁকে ভিনরাজ্যে (তামিলনাড়ু) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “নির্বাচন ঘোষণার আগে পর্যন্ত যখন অফিসারদের কাজে কোনো অসন্তোষ ছিল না, তবে হঠাৎ এমন কী হলো যে তাঁদের সরাতে হলো? শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো রাজ্যে এমন নজির নেই।”
তৃণমূলের আইনজীবীর দাবি, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই কমিশন সমস্ত আধিকারিককে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কি কমিশন এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে? এই প্রশ্নই এখন আইনি লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
