অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: আরজি কর কাণ্ডের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ হয়ে উঠেছিলেন আখতার আলি। কিন্তু এবার তিনিই অভিযুক্ত হলেন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি সামনে এনে আখতার আলিকে সাসপেন্ড করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার সাসপেনশন অর্ডার হাতে পান বর্তমানে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ডেপুটি সুপার পদে কর্মরত আখতার আলি (Kaliyaganj)।
সাসপেনশন নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘আমি আগেই চাকরি ছাড়ার জন্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমাকে কোনওরকম শোকজ না করে সরাসরি সাসপেন্ড করা হল। আখেরে আমি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের দাদাগিরির শিকার হলাম।’
শনিবার দুপুরে হাসপাতালের দ্বিতলে নিজের কক্ষে এসে তিনি সরকারি ফাইলপত্র হাসপাতাল সুপারের দপ্তরে হস্তান্তরের প্রস্তুতি শুরু করেন। আখতার আলির বক্তব্য, ‘আজ আমার দায়িত্বে থাকা সমস্ত ফাইলপত্র হ্যান্ডওভার করে দেব। এবার অখণ্ড অবসরে মন দিয়ে দুর্নীতিযুক্ত রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামব। ভোটে দাঁড়ানোরও চিন্তাভাবনা রয়েছে। আমি জিতে এলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলব।’
সাসপেনশনের পর রবিবার ভোরেই কালিয়াগঞ্জ ছেড়ে কলকাতা রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আরজি কর কাণ্ডে রাজ্য উত্তাল হয়ে ওঠে। সেই সময় তৎকালীন আরজি করের অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন হাসপাতালের ডেপুটি সুপার আখতার আলি। পরে তাঁকে বদলি করে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদে। কয়েক মাস পর কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ডেপুটি সুপার হিসেবে যোগ দেন তিনি। কিছুদিন চাকরির পরই তিনি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
কী অভিযোগ আখতার আলির বিরুদ্ধে? রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাঠানো সাসপেনশন অর্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে সরঞ্জাম ক্রয় এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেআইনিভাবে বিমানে ভ্রমণ— এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগের জবাবে আখতার আলির দাবি, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। আমি ভোটে দাঁড়াব। হয়তো এই ভয়েই ওরা আমার সঙ্গে এমন করছে। আমাকে সাসপেন্ড করার আগে কোনও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশের আগে পর্যন্ত ডাঃ সন্দীপ ঘোষকে সাসপেন্ড করেনি রাজ্য সরকার, কিন্তু আমায় করে দিল।’
কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডাঃ জয়দেব রায়ের বক্তব্য, ‘একজন নন-মেডিকেল ব্যক্তির চার্জ আমি নিতে পারি না। আখতার আলি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে গিয়ে চার্জ হ্যান্ডওভার করবেন। উনি সরকারি হাসপাতাল সংক্রান্ত কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এরপর যা করার রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর করবে।’
