উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের ১২ দিন অতিক্রান্ত। যুদ্ধের রণাঙ্গনে ড্রোনের দাপট নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভারতের কৃষি অর্থনীতির (Agriculture India) ওপর ঘনিয়ে আসছে এক নিঃশব্দ বিপদ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অলিখিত অবরোধের ফলে ভারতের সার (Fertiliser) সরবরাহ ব্যবস্থা এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে (Fertiliser Scarcity)। দেশে পেট্রোপণ্যের যোগান স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ১৪৭ কোটি মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এখন দিল্লির কাছে বড় পরীক্ষা।
সারের বাজারে হরমুজ আতঙ্ক:
পেট্রোল-ডিজেল বা এলপিজি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থাকলেও, পর্দার আড়ালে সারের সংকট আরও গভীর। ভারতের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সারের (ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া) ৬৩ শতাংশ এবং ডিএপি-র (DAP) ৩২ শতাংশ আসে সৌদি আরব, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এই দেশগুলো থেকে পণ্যবাহী জাহাজ ভারতে আসার একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালী। বর্তমান অস্থিরতায় এই পথে পণ্য পরিবহনে ঝুঁকি ও বিমা খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
কেন এই সংকট ভারতের জন্য উদ্বেগের?
ভারতের কৃষি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জুন-জুলাই মাস থেকে খারিফ শস্যের বপন শুরু হবে। এই সময়ে সারের জোগান কমলে বা দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদনে। উল্লেখ্য, ২০২৬ অর্থবর্ষে সার আমদানির খরচ রেকর্ড ১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা ছিল, যার বড় অংশই এখন অনিশ্চিত।
বিকল্পের খোঁজে দিল্লি:
জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারতের ত্রাতা হলেও সারের ক্ষেত্রে বিকল্প সীমিত। চীন বা রাশিয়ার দিকে ঝোঁকার সুযোগ থাকলেও, বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভরসা করেছিল। এখন উপায় হিসেবে ঘরোয়া উৎপাদন (Make-in-India) বাড়ানোর কথা ভাবা হলেও সেখানেও বাধা রয়েছে। ইউরিয়া তৈরির প্রধান উপাদান প্রাকৃতিক গ্যাসও (Pure gasoline provide) আসে সেই কাতার ও ওমান থেকেই, যারা যুদ্ধের কারণে জোগান ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে যে আপদকালীন সারের স্টক মজুত রয়েছে। সামনেই নির্বাচন, তাই কৃষকদের অসন্তোষ এড়াতে সরকার প্রয়োজনে বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়ে হলেও সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর।
The publish Strait of Hormuz blockade impact | বিপদের মুখে খাদ্য সুরক্ষা! হরমুজ সংকটে এবার ভারতের সার আমদানিতে বড় ধাক্কা? appeared first on Uttarbanga Sambad.
