এম আনওয়ারউল হক, বৈষ্ণবনগর: কেউ কেটে মাঠে রেখে দিয়েছিলেন, কেউ কাটার জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করছিলেন। মাঠে মারা গেল তাঁদের উদ্যোগ বা ভাবনা। টানা বৃষ্টির জেরে পাকা ধান যে আর ঘরে তোলা যাবে না, তা নিশ্চিত বুঝে গিয়েছেন কৃষকরা। তাই কালিয়াচক ৩ নম্বর (Kaliachak) ব্লকের পার লালপুর গ্রামজুড়ে এখন শুধুই চাষিদের হাহাকার। সেই হাহাকারে শোনা যাচ্ছে, ‘ধান ফলিয়েও ঘরে তোলা গেল না, বৃষ্টি সব শেষ করে দিল।’ অসময়ে কীসের জন্য এমন বৃষ্টি, তা তাঁরা খোঁজ রাখেন না, চেষ্টাও করেন না। বর্ষণে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে তাঁরা এখন খুঁজছেন পরিত্রাণের পথ।
বর্ষা বিদায় নিলেও রেহাই মিলছে না বৃষ্টির থেকে। মন্থার পরোক্ষ প্রভাবে ঝাড়খণ্ডের ওপর সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টি চলছে মালদাতেও। আর এমন বৃষ্টির জেরে মাথায় হাত পড়েছে ধানচাষিদের। পাকা ধান কাটার প্রাক-মুহূর্তের বৃষ্টিতে জলের তলায় একের পর এক জমি। চাষিদের বক্তব্য, গ্রামের প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান ইতিমধ্যেই পেকে গিয়েছে। যে কারণে অনেকেই ধান কাটা শুরু করে রেখে দিয়েছিলেন জমিতে। কিন্তু মাঠজুড়ে জল জমে যাওয়ায়, কাটা ধান জলের তলায় থেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চাষিরা। যে ধান কাটা হয়নি, সেই গাছগুলিও হেলে পড়েছে। বহু জায়গায় ধানের শীষে পচন ধরেছে। যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয় কৃষক জয়নাল শেখ বলছেন, ‘চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম, সবটাই জলে পচে গেল। সার, বীজ, সেচ- এত টাকা খরচ করলাম। কিন্তু ফসল ঘরে তুলতে পারলাম না।’ এলাকারই মনোয়ার হোসেনের কথায়, ‘এমন বৃষ্টি আগে দেখিনি। জলে জমি দেখা যাচ্ছে না, গোরু নিয়েও ঢোকা যাচ্ছে না। ধান কাটা তো দূরের কথা।’ ধান কাটা, বহন ও শুকানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত দিনমজুরদের অবস্থা আরও করুণ। তিনদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সংসারে নেমেছে অন্ধকার। স্থানীয় শ্রমিক রহিমা বিবি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ধান কাটার কাজ করছি। এখন মাঠে জল, কাজ নেই, সংসারে উনুন জ্বলছে না।’
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, শনিবার থেকে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে। দু’দিনের মধ্যে রোদের দেখা মিলবে। কিন্তু ধানের যা ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা কৃষকদের। কালিয়াচক-৩ ব্লক কৃষি আধিকারিক সরোজ প্রামাণিক বলেন, ‘নিম্নচাপের কারণে মালদার বিভিন্ন অঞ্চলে ধান ও সবজি চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহ করছেন। যেসব কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের রাজ্য সরকারের কৃষিবিমা প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।’
