উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ উত্তর ২৪ পরগনার নির্বাচনী ভরাডুবির নৈতিক দায় নিয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar Resigns)। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি যে কারণগুলি উল্লেখ করেছেন, তা তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) খবরদারি তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত ও বারাকপুরসহ উত্তর ২৪ পরগনার অধিকাংশ আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর, দলের ওপর থেকে নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আলগা হওয়ার বিষয়টিই তাঁর ইস্তফার অন্যতম মূল কারণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সাংসদ জানিয়েছেন, বারাসত সাংগঠনিক জেলায় দলের পরাজয়ের দায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করছেন। দলবদল বা নতুন কোনো রাজনৈতিক মঞ্চের দিকে পা বাড়ানো নয়, বরং দলের ভেতরে ঘুন ধরে যাওয়া ব্যবস্থা ও বহিরাগত ভোটকুশলীদের দাপট যে তাঁর মতো বর্ষীয়ান নেত্রীর পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন, তা তাঁর এই পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পদত্যাগ কি দলের অন্দরে আরও বড় কোনো বিদ্রোহের ইঙ্গিত? নাকি তৃণমূলের সংগঠন ঢেলে সাজাতে এটি একটি সতর্কবার্তা? তা নিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক। বারাসত জেলায় তৃণমূলের এই পরিস্থিতি যে এক সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে, তা এই ইস্তফার ঘটনাতেই প্রমাণিত।
