উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির আগের দিনই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন হাসনের বিধায়ক ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে তিনি নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন এবং সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই পদত্যাগপত্র গৃহীতও হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদের এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে সমস্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
বীরভূম জেলা পরিষদে মোট সদস্য সংখ্যা ৫২। তার মধ্যে ৫১ জন তৃণমূলের আর একজন কংগ্রেসের। তৃণমূলের এক সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় তাদের সদস্যসংখ্যা এখন ৫০। কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন জেলা পরিষদের ১৯ জন তৃণমূল সদস্য। শুক্রবারই এই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন-এই বিষয়টি বুঝেই ভোটাভুটির আগের দিন সভাধিপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন কাজল।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে কাজলের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের কাজকর্মে অনীহা ও দীর্ঘ দিন অফিসে না আসার অভিযোগ তুলছিলেন নিজ দলেরই একাংশ। বিভিন্ন স্থায়ী সমিতির বৈঠক থমকে থাকা এবং প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার কারণ দেখিয়েই বিকাশ রায়চৌধুরী সহ ১৯ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন।
অন্যদিকে, কাজলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করে বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, “ওদিকে তো সব ‘ভালো’ তৃণমূল। তা হলে ‘ভালোদের’ মধ্যে এত গুঁতোগুঁতি কেন? আসলে সবটাই পুলিশকে দিয়ে ধমকানি-চমকানির রাজনীতি চলছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

