শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: জন বারলাকে (John Barla) মাঠে নামিয়ে পালটা আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে তৃণমূলকে (TMC)। বারলার সম্পত্তি নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তোলায় রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের এখন অস্বস্তি বাড়ছে।
ঘাসফুল শিবিরের জার্সি চাপিয়ে জনসংযোগে নেমেছেন জন বারলা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিজে নানা স্থানে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল নেতা-নেত্রীরাও এসে দেখা করে যাচ্ছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোই যে তাঁর পাখির চোখ, বারলা সেটা পরিষ্কার করে দিচ্ছেন সর্বত্র। মঙ্গলবার বারলার লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের বাড়িতে যান শাসকদলের মেটেলি ব্লক কমিটির সভাপতি স্নোমিতা কালান্দি সহ সেখানকার পঁাচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা।
বারলার পাশে বসে এদিন স্নোমিতা বলেন, ‘এখানকার বিজেপি বিধায়ককে কেউ চেনেই না। প্রায় সাড়ে ৪ বছর পার হতে চলল। একটা উন্নয়নের কাজও তিনি কোথাও করতে পারেননি। আগামী নির্বাচনে সবাই একজোট হয়ে নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রটি দিদির হাতে তুলে দেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য। এক্ষেত্রে জন বারলাও একজন গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক।’
নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা পালটা বলেন, ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি আমার এএলএ ফান্ড থেকে দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্সেই জন বারলার প্রয়াত স্ত্রীকে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেটেলি বিডিও অফিসে আমার দেওয়া শববাহী গাড়ি চুপিসারে ওরাই উদ্বোধন করেছিল। স্নোমিতার কাছে প্রশ্ন রইল, জন বারলার সম্পত্তি নিয়ে তাঁর দল এত প্রশ্ন তুলেছিল। এখন কোন মন্ত্রে জন ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে গেলেন? নাগরাকাটার জন্য কেন্দ্রের মন্ত্রী হিসেবে বারলা কী করেছেন, সেটাও জানতে চাই।’
পুনার দাবি, ‘বারবার নানা স্থানে এনওসি আটকে দেওয়া সত্ত্বেও সৌরবিদ্যুতের পথবাতি সহ বহু কাজ করে চলেছি। লুকসান ও ইনগু বাগানের রাস্তা থেকে শুরু করে মেটেলির কূর্তিঝোরার সেতু নির্মাণের যে কাজ চলছে, সেই দাবির কথা বিধানসভায় আমিই তুলেছিলাম।’
বারলা এদিন বলেন, ‘৩০ মে থেকে চা বাগানগুলিতে যাব। সমস্ত জায়গা থেকে আমার পুরোনো সহকর্মীদের বিপুল সাড়া মিলছে। প্রতিদিন বহু মানুষ এসে দেখা করে যাচ্ছেন। যখন আদিবাসী বিকাশ পরিষদ করতাম সেসময়ের বহু পুরোনো নেতারা আমার সঙ্গে থাকার বার্তা দিচ্ছেন। ডুয়ার্স-তরাইতে মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করাই একমাত্র লক্ষ্য।’ এদিন বারলার বাড়িতে আসেন বীরপাড়ার আদিবাসী নেতা রূপেশ পাইক সহ আরও কয়েকজন।
