উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিনেই যেন রণক্ষেত্র হয়ে উঠল ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) রাঁচী। নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিতে দিনভর উত্তপ্ত থাকার পর, সোমবার সন্ধ্যায় ফের ধুন্ধুমার বাঁধল ঝাড়খণ্ড বিধানসভা চত্বরে। বিধানসভার এক নম্বর গেটের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের হটাতে দ্বিতীয় দফায় লাঠিচার্জ করল পুলিশ। আর এই আকস্মিক পদক্ষেপে গোটা এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
জেপিএসসি (JPSC) এবং জেএসএসসি (JSSC) পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এদিন সকালেই বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। পূর্বনির্ধারিত সেই কর্মসূচি অনুযায়ী হাজার হাজার ছাত্র-যুব ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার কাছাকাছি পৌঁছে যান। সকালের দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ জলকামান ও প্রথম দফার লাঠিচার্জ চালালেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেননি; বরং বিধানসভার বাইরেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন তাঁরা। এই তুমুল হট্টগোল ও প্রতিবাদের জেরে বাধ্য হয়েই এদিনের মতো বিধানসভার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
তবে অস্থিরতা শুরু হয় সন্ধ্যায়। বিধানসভার সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের জোরপূর্বক সরাতে মাঠে নামে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ তেড়ে গিয়ে ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি বেধে যায়। পুলিশের লাঠির চোটে বেশ কয়েক জন আন্দোলনকারী জখম হন। তা সত্ত্বেও রাত পর্যন্ত একাংশ বিক্ষোভকারীকে পুরোপুরি হঠানো সম্ভব হয়নি।
সারাদিনের এই পুলিশি দমনপীড়ন এবং বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পুলিশের লাঠিপেটা খাওয়ার ক্ষোভ ফেটে পড়েছে আন্দোলনকারীদের গলায়। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনের দিন এমন আচরণে তীব্র ব্যাঙ্গ করে এক আন্দোলনকারী বলেন, “তিনি (হেমন্ত সোরেন) নিজের জন্মদিনের উৎসবে মেতে আছেন, আর আমাদের এখানে রাস্তায় ফেলে রেখেছেন। আমরা বৃষ্টিতে ভিজছি, এখানেই শুকোচ্ছি। তার ওপরে আবার লাঠিচার্জ করা হল। কী দারুণ একটা জন্মদিনের উপহারই না আমরা পেলাম!” সব মিলিয়ে, পরীক্ষার্থী ও ছাত্র সমাজের এই ক্ষোভ আগামী দিনে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

