এবার চিনা মাঞ্জার কোপে এক পুলিশ আধিকারিক। মা ফ্লাইওভার ধরে বাড়ি ফেরার সময় চিনা মাঞ্জা সুতোয় গলা কাটল বাইক আরোহী ওই পুলিশ আধিকারিকের। আঘাত এতটাই যে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। এই ব্যাপারে সঞ্জীব নাগ নামে কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর কড়েয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশের মতে, জুন বা জুলাইয়ের পর থেকে ঘুড়ি ওড়ানো বেড়ে যায় শহরের এই অংশে। বিশ্বকর্মা পুজো পেরিয়ে যাওয়ার পরও চলে ঘুড়ি ওড়ানো। চিনা মাঞ্জা নিষিদ্ধ হওয়ার পরও অনেকে চোরাপথে চিনা মাঞ্জা কিনে সেই সুতোয় ওড়ায় ঘুড়ি। মা ফ্লাইওভারের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলে ঘুড়ি ওড়ানো। কাটা ঘুড়ির সেই সুতো কখনও চলে আসে ফ্লাইওভারের উপর। সেই সুতোই যেন ‘মৃত্যুফাদ’। সেই সুতোয় রক্তাক্ত হন বাইক আরোহীরা। অতীতে মৃত্যুও ঘটেছে একাধিক ব্যক্তির।
ফ্লাইওভারের পুরো অংশে এখনও মাঞ্জা সুতো রোধ করার জন্য তার লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই এখনও কিছু ক্ষেত্রে বিপদে পড়ছেন বাইক আরোহীরা। গলা ও মুখে চিনা মাঞ্জাসুতো জড়িয়ে আহত হয়েছেন বহু বাইক ও স্কুটি আরোহী। ক’দন আগেও একই ঘটিনা ঘটেছে এক ব্যক্তির সঙ্গে। এবার পুলিশ আধিকারিক জখম হওয়ার ঘটনার পর থেকেই মা ফ্লাইওভারের নজরদারিতে আরও কড়া হয়েছে পুলিশ। কড়েয়া থানা, তপসিয়া থানার পুলিশ চালাচ্ছে টহলও। প্রয়োজনে বিকেল থেকে পুলিশ বাইনোকুলারেও নজরদারি রাখতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যার আগে ডিউটি সেরে সল্টলেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এএসআই সঞ্জীব নাগ। ই এম বাইপাসের দিকে বাইকে করে যাওয়ার সময়ই হঠাৎ গলায় টান অনুভব করেন ওই পুলিশ আধিকারিক। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বুঝতে পারেন, একটি শক্ত সুতো তাঁর গলায় জড়িয়ে ধরেছে। বাইক একটু এগোনমাত্রই ওই সুতো গলায় কেটে বসে যেতে থাকে। গলা থেকে রক্ত বেরতে থাকে। তিনি রাস্তার উপর পড়ে যান। ঘটনা দেখে কয়েকজন বাইক ও গাড়ির আরোহী দঁাড়িয়ে পড়েন। তাঁকে বাইপাসের উপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কোন দিক থেকে ঘুড়িটি ওড়ানো হচ্ছিল, কারা ঘুড়ি ওড়াচ্ছিল, শনাক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
