উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় এক যুগের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিলেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ লেখক (British Writer) তথা প্রাক্তন রাজনীতিবিদ জেফ্রি আর্চার (Jeffrey Archer)। প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সে নিজ বাসভবনেই লেখালিখির ফাঁকে হঠাৎ ও শান্তভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি বইপ্রেমী ও সাহিত্যজগৎ।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য সাহিত্যিক জীবনে বিশ্ববাসীর মন জয় করেছিলেন এই গল্পকার। আর্চারের মৃত্যুর ঠিক প্রাক্কালেই চলতি মাসে তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ যেমন ‘কেইন অ্যান্ড আবেল’ কিংবা ‘ক্লিফটন ক্রনিকলস’ বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরিসংখ্যান বলছে, ১১৯টি দেশে ৪৯টি ভাষায় তাঁর লেখা মোট তিন কোটিরও বেশি কপি বই বিক্রি হয়েছে। সমারসেটের ওয়েলিংটনের গ্রামীণ আবহ ও শৈশবের স্মৃতি বারবার উঠে এসেছে তাঁর উপন্যাসের পটভূমিতে। এছাড়া দ্য সানডে টাইমস এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার তালিকার শীর্ষস্থানে দীর্ঘ ১৪ বছর ৫ মাস এবং সাড়ে ৫ বছর ধরে অটুট ছিল তাঁর নাম।
১৯৪০ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর লন্ডনে জন্ম নেওয়া আর্চারের পরিবার পরবর্তীতে সমারসেটের ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ার অঞ্চলে চলে যায়। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী মেরির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ষাট বছরের দাম্পত্যের ইতিহাস রয়েছে। এই দম্পতির দুই পুত্রসন্তান ছাড়াও পাঁচজন নাতি-নাতনি রয়েছে। ১৯৯২ সালে তাঁকে ‘লাইফ পিয়ার’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন আর্চার। কনজারভেটিভ পার্টির টিকটকে তিনি পাঁচ বছর পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০১ সালে একটি মানহানি মামলার শুনানিতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চার বছরের কারাদণ্ড হয়। এই আইনি জটিলতার জেরে তাঁর রাজনৈতিক গতিপথ থমকে গেলেও পরবর্তী সময়ে তিনি লেখালেখিতেই পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। ২০০৩ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সাহিত্যসাধনা চালিয়ে যান এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাউস অফ লর্ডস-এর সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

