টোকিও: ফুকুশিমার সেই অভিশপ্ত বিকেল আজও জাপানিদের স্মৃতিতে এক আতঙ্কের নাম। ২০১১ সালের সেই ভয়াল সুনামির ঢেউ যখন পরমাণু চুল্লির দেওয়াল ভেঙে তছনছ করে দিয়েছিল, তখন থেকেই জাপানের (Japan) আকাশে-বাতাসে থমথমে ভয় গেঁথে আছে। প্রায় ১৫ বছর পর সেই ‘ফুকুশিমা ভূত’ আবারও জাপানিদের তাড়া করে ফিরছে। কারণ, বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া’ ফের চালু করার তোড়জোড় শুরু করেছে জাপান সরকার।
নিগাতা প্রদেশের সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই অতিকায় কেন্দ্রটি যেন এক ঘুমন্ত দানব। ২০১১-এর বিপর্যয়ের পর যখন গোটা দেশের পরমাণু চুল্লিগুলি একের পর এক নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এই কেন্দ্রটিও তখন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরতেই জ্বালানি সংকট আর আকাশছোঁয়া বিদ্যুতের দাম মেটাতে সরকার আবারও সেই পরমাণু শক্তির পথেই হাঁটতে চাইছে।
তবে এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে ঘুম নেই। তাঁদের মনে পড়ছে ফুকুশিমার সেই জনশূন্য শহর, তেজস্ক্রিয়তার আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানো হাজারো মানুষের মুখ। জাপান এমন এক ভূখণ্ড যেখানে মাটি যে কোনও সময় কাঁপতে শুরু করে। এই অনিশ্চয়তার মাঝে বিশ্বের বৃহত্তম চুল্লিটি জাগিয়ে তোলা মানে কি এক নতুন মহাপ্রলয়কে আমন্ত্রণ জানানো?
প্রশাসন বলছে, নিরাপত্তা এখন শতভাগ নিশ্ছিদ্র। কিন্তু সাধারণ জাপানির মনে সংশয়— যান্ত্রিক উন্নতির অহংকার কি প্রকৃতির রুদ্ররোষের সামনে টিকবে? একদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির হাতছানি, অন্যদিকে ফুকুশিমার বিষাদময় শিক্ষা, দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আজ চরম দোটানায় দিন কাটছে জাপানিদের।
