রাসবিহারী বসুর পৈতৃক ভিটেতে সুলভ শৌচালয়! তৃণমূল জমানায় নজিরবিহীন কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে এদিন বিধানসভায় সরব হন পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়। পর্যটনমন্ত্রীকে বিষয়টি দেখার আবেদন জানিয়ে বিধায়কের সাফ কথা, ‘বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক’। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি অ্যাকশনে নামে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা কেউ ছাড় পাবেন না’।
বিধানসভায় বাজেটের পর্যটন পর্ব নিয়ে আলোচনার মাঝেই পূর্বস্থলীর বিধায়ক এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিপ্লবীকে যথাযথ সম্মান তো দূরের কথা। উলটে চূড়ান্ত অপমানের নিদর্শন হিসেবে দেখা যাচ্ছে এই ঘটনা। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “রাসবিহারী বসুর বাড়িটা পাবলিক টয়লেট বানিয়েছে। ধিক্কার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে। আমি শঙ্করবাবুকে অনুরোধ করছি, ১৫ আগস্টের আগে ওই গণ-টয়লেট ভাঙার ব্যবস্থা করা হোক। মহাপুরুষের এতবড় অপমান তৃণমূল ছাড়া কেউ করেনি। জনগণ তার বিচার করেছে।’ বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কের এই আবেদনের পরেই নড়েচড়ে বসে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, “দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের কাছ থেকেও রিপোর্ট নেওয়া হবে। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
সরকারে থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিপ্লবীদের অপমান প্রসঙ্গে বহুবার সুর চড়াতে দেখা গেছে তৎকালীন বিরোধী দলকে। কখনও ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা নিয়ে বিতর্ক, কখনও মহাপুরুষদের জন্ম-মৃত্যুদিনের অভহেলা। তাঁদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলির দুর্দশার ছবি বারবার সমালোচনার মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে পূর্বতন সরকারকে। ঠিক সেই পথে হেঁটেই যে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর বাড়িকে সুলভ শৌচালয় করার উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল তা তো বলাই বাহুল্য!
সর্বশেষ খবর
