উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁস (Paper Leak) কাণ্ডের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) প্রতিবাদী বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে আইনি ফাঁদে পড়লেন এক তরুণী। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ সমাবেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের জেরে ২৫ বছর বয়সি রুচিকা সিং নামক ওই তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৩ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে পেপার লিক কাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল সিজেপি। সেই বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন রুচিকা সিং। অভিযোগ ওঠে, তাঁর এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং এর ফলে সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনায় বুধবার একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় প্রথমে জিরো এফআইআর (Zero FIR) রুজু করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারায়—অর্থাৎ শান্তিভঙ্গের উসকানি, জনসমক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বয়ান এবং মানহানির অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই এফআইআর দিল্লির সংসদ মার্গ থানায় (Parliament Road Police Station) স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চলছে।
এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর মতে, ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হলেও তার জন্য সরাসরি ফৌজদারি আইন বা পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি তরুণ প্রজন্মকে প্রতিবাদ করার সময় শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই বিতর্কের আবহেই দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশীষ সুদ জানিয়েছেন যে, বিক্ষোভে যুক্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মামলা পর্যালোচনা করা হবে। তবে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা সমাজবিরোধী উপাদান যদি ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করে থাকে, তবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

