উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সুরের মূর্ছনা ছাপিয়ে চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল উন্মত্ত আস্ফালন! তছনছ হয়ে গেল মঞ্চ, গান শুরুর আগেই পণ্ড হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত রক কনসার্ট (Live performance Assault)। শুক্রবার রাতে ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ঘিরে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটল, তাতে শিউরে উঠছে ওপার বাংলা। টার্গেট ছিলেন স্বয়ং বাংলাদেশের (Bangladesh Information) রক লেজেন্ড জেমস (James Live performance Assault)। গানের বদলে চলল ইটের বৃষ্টি, রণক্ষেত্র হয়ে উঠল স্কুল চত্বর। হামলায় অন্তত ২০-২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।
রক্তাক্ত ফরিদপুর: জেমসের গানে মৌলবাদী কাঁটা?
সূত্রের খবর, শুক্রবার ছিল ফরিদপুর (Faridpur) জিলা স্কুলের বর্ষপূর্তির সমাপনী অনুষ্ঠান। মধ্যমণি ছিলেন ‘নগর বাউল’ (Nagar Baul) জেমস। তাঁকে একপলক দেখতে এবং তাঁর গানে মাততে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার ছাত্র ও সংগীতপ্রেমী। কিন্তু রাত ৯টা নাগাদ গান শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে একদল উগ্রপন্থী ও বহিরাগত যুবক লাঠিসোঁটা ও ইট নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে চড়াও হয়। তাদের দাবি ছিল— ‘কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা গান-বাজনা চলতে দেওয়া হবে না’।
উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব ও ইটের বৃষ্টি
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা অতর্কিতে দর্শকদের লক্ষ্য করে এবং মঞ্চের দিকে নির্বিচারে ইট ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন অনেক শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে জেমসের গান বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা। ফলে গান না গেয়েই কড়া নিরাপত্তায় ফিরে যেতে হয় শিল্পীকে।
বিপন্ন মুক্ত সংস্কৃতি? উত্তাল ওপার বাংলা
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটছে। কখনও মাজার ভাঙা, কখনও বা শিল্পীদের হেনস্তা। এবার খোদ জেমসের মতো তারকাকে টার্গেট করায় ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। প্রশ্ন উঠছে— তবে কি ওপার বাংলায় রক মিউজিক বা গান-কবিতা চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ছক কষা হচ্ছে?
আতঙ্কে শিল্পী মহল
ফরিদপুরের এই হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে দুই বাংলাতেই। সুরের জগতকে কি তবে মৌলবাদী আস্ফালনের কাছে নতি স্বীকার করতে হবে? প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও, শুক্রবারের এই ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’র আতঙ্ক কাটছে না সাধারণ মানুষের মন থেকে। সুরের বদলে এখন ওপার বাংলার আকাশে শুধুই অসহিষ্ণুতার কালো মেঘ!
